যশোর ৬: জামায়াতের অধ্যা: মোক্তার আলী অপু আজাদ সামাদ বিস্বাস বিএনপির ৩


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

মালিকুজ্জামান কাকা
যশোর প্রতিনিধিঃ


যশোর ৬ কেশবপুর আসনে বিএনপির প্রার্থী তিন। এরা হলেন, কেন্দ্রীয় নেতা অমলেন্দু দাস অপু, কেশবপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবুল হোসেন আজাদ, কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদ বিশ্বাস।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল।
যশোর-৬ হল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার একটি। এটি যশোর জেলায় অবস্থিত জাতীয় সংসদের ৯০ নং আসন। ১৪৪ গ্রামের উপজেলা কেশবপুর।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের প্রার্থী থানা আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী। তিনি ১৯৯৬ সালেও দলের প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু সেবার তিনি ভালো ফলাফল করতে পারেননি। অধ্যাপক মোক্তার আলী কেশবপুর কলেজের ইংরেজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক।

এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, কেশবপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবুল হোসেন আজাদ, কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদ বিশ্বাস,  উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী। এই আসনে অন্য রাজনৈতিক দলের তৎপরতা থাকলেও এখনো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম শোনা যায়নি ।

কেশবপুর উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনটি গঠিত। বর্তমানে এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৭ হাজার ৯২৪ জন। একাধিক বার সীমানা পরিবর্তন হওয়ায় বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনের ফলাফলেও এর প্রভাব রয়েছে। 

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। ১৯৭৯ সালে শুধু কেশবপুরকে নিয়ে সংসদীয় আসন যশোর-৬ গঠিত হলে বিএনপি থেকে ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ী হন গাজী এরশাদ আলী। ১৯৮৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল হালিম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চাকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের। এরপর ১৯৯১ সালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দল বদল করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন পুনরায় বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জুনে সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এএসএইচকে সাদেক। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ফের সীমানা পরিবর্তন হলে (কেশবপুর, অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন) সংসদীয় আসন-৬ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন অভয়নগরের অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পূর্বের সীমানায় (শুধু কেশবপুর উপজেলা) নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর দু’বার নির্বাচিত হন প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের স্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। তিনি মারা যাবার পর ২০২০ সালে উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী খন্দকার আজিজুল ইসলাম বিজয়ী হন। 
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বদলে গেছে ভোটের মাঠে সমীকরণ। নয়া সমীকরণে আলোচিত হচ্ছে আগামি নির্বাচনে মুখোমুখি হবে দীর্ঘদিনের জোট সঙ্গী বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। উভয় দল নিজ নিজ ভোট ব্যাংকের বাইরে সাধারণ ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে। এই হিসেবে দলের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজও ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। ফলে প্রার্থী মনোনয়নে দুরদর্শিতার উপর জয়-পরাজয় নিভর করবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেছেন। তিনি নূন্যতম সংষ্কাকার করে নির্বাচন দাবি করেছেন, সেই জন্য মাঠ প্রস্তুত করা হচ্ছে। ১৬ বছর বিএনপির অফিস তালাবদ্ধ ছিল, নেতাকর্মীরা গায়েবি মামলার আসামি, তাদের মনোবল চাঙা করার চেষ্টা করছি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। তার বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছি। এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকেছি। কেশবপুরের সর্বস্তরের মানুষ আমাকে পছন্দ করে। আগামি নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো বলে আশাবাদী।

জামায়াতে ইসলামী কেশবপুর উপজেলা আমীর অধ্যাপক মোক্তার আলী একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রকাশ্যে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে নানা কর্মসূচি পালন করছে দলটির নেতাকর্মীরা। জামায়াত এই আসনটি তাদের দখলে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মোক্তার আলী জানান, দলের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত দৃঢ়। প্রতিটি গ্রামে মহিলা কর্মীসহ দলের কর্মীরা মানুষের কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। যারা হিংসা হানাহানি করছে জনগণ তাদের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বর্জন করবেন আশা করি।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ