অথই নুরুল আমিন , ঢাকা:
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ অগোছালো ও বৈষম্যমূলক রয়ে যাওয়ায় লেখাপড়া থেকে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক অথই নূরুল আমিন। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিএনপির আমলেও যদি সুশৃঙ্খল শিক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিত করা না যায়, তবে তা হবে পুরো জাতির জন্য চরম হতাশার বিষয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মোহাম্মদপুর, ঢাকা থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সুচিন্তিত ও গভীর বিশ্লেষণমূলক প্রবন্ধে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রবন্ধে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতি, বৈষম্য এবং এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় চরম বৈষম্য ও বাণিজ্যিকীকরণ
অথই নূরুল আমিন তাঁর লেখায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত করে বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেছেন:
১. সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়: এখানে বিনা মূল্যে সরকারি বই পাওয়া গেলেও নানা ‘ভূতুড়ে নিয়মকানুন’ ও জটিলতার কারণে অনেকেরই সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া নামমাত্র বেতনের কথা বলা হলেও গাইড বই, খাতা-কলম ও আনুষাঙ্গিক খরচে অভিভাবকদের হিমশিম খেতে হয়।
২. বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কিন্ডারগার্টেন: বড় শহরগুলোতে গড়ে ওঠা হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কিন্ডারগার্টেন বর্তমানে শিক্ষাবাণিজ্যের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। মাসিক বেতন, পরীক্ষা ফি, কোচিং ফি ও পোশাকের চড়া দামে অভিভাবকরা দিশেহারা হলেও এসব প্রতিষ্ঠান নীরবে বিলিয়ন টাকার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
মেধাপাচার ও সামাজিক অবক্ষয়
লেখকের মতে, ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার কারণে দেশের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা বাধ্য হয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। অন্যদিকে প্রকৃত লেখাপড়ায় অমনোযোগী একটি বড় অংশ বখাটে হয়ে পড়ছে এবং জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং ও মাদকের ভয়াল গ্রাসে।
বাজেট ও অব্যবস্থাপনা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করলেও সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট সঠিকভাবে কাজে লাগেনি বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি বিদ্যালয়গুলো আজ লোকসানী কৃষকের শূন্য গোয়াল ঘরের মতো রূপ নিয়েছে।
জরুরি প্রতিকার ও প্রস্তাবনা
দেশের নতুন প্রজন্মকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সাজানোর তাগিদ দিয়েছেন লেখক। প্রবন্ধে তিনি দুটি বিকল্প প্রস্তাব পেশ করেছেন—হয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সব শিক্ষার্থীর সমান ও পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে, নতুবা শিক্ষা খাতকে সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় পরিচালনা করতে হবে।
শিক্ষা খাতের এই মৌলিক সংকট নিয়ে নীতিনির্ধারক ও সুধীমহলে কার্যকর আলোচনা ও আশু পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন অথই নূরুল আমিন।
আপনার মতামত লিখুন :