নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগে সনাক এর গণশুনানি
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগে সনাক এর গণশুনানি
____________________________
খুচরা বা ভাংতি না থাকার অজুহাতে টিকিট কাউন্টারে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবিলম্বে সেই অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম সম্পূর্ণভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, নীলফামারীর তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু-আল-হাজ্জাজ। পাশাপাশি সেলাই সুতা, গজ, ওষুধের প্রাপ্যতাসহ জরুরি সেবাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন এবং বিজয়ের মাসের মধ্যেই নতুন ভবনে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
সোমবার (৮ই ডিসেম্বর) সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), নীলফামারী আয়োজিত গণশুনানিতে এসব অঙ্গীকার করেন তত্ত্বাবধায়ক।
আড়াই ঘণ্টাব্যাপী গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন সনাক সভাপতি মো. আকতারুল আলম। সেবাগ্রহীতা ও নাগরিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু-আল-হাজ্জাজ, সহকারী পরিচালক ডা. মো. আব্দুল্লাহেল মাফী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শাহীনুর রহমান সরকার, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জগন্নাথ রায়, নার্সিং সুপারভাইজার আনোয়ারা খাতুন, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আতিউর রহমান শেখ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সনাক সদস্য মো. মিজানুর রহমান লিটু।
গণশুনানিতে দুই শতাধিক সেবাগ্রহীতা, সনাক, ইয়েস এবং এসজি সদস্যসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, বাবরিঝাড় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং গোড়গ্রাম ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়মিত ডাক্তার পদায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জগন্নাথ রায় জানান, পূর্বের তুলনায় ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এখন ওষুধ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, নার্সদের আচরণগত সমস্যা, চিকিৎসকদের সময়মতো না থাকা, পর্যাপ্ত ওষুধ সংকট, জলাতঙ্ক টিকার স্বল্পতা, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে স্যালাইন ঘাটতি ও স্ট্যান্ডের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এসব অভিযোগের কিছু তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয় এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন উপস্থিত কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস (৯ ডিসেম্বর) উপলক্ষ্যে সনাক নীলফামারীর উদ্যোগে জেলার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সেবামুখী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল গঠনের লক্ষ্যে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
আব্দুস সালাম,
নীলফামারী প্রতিনিধি:
আপনার মতামত লিখুন :