নিজের ইজ্জত ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা, মিথ্যা মামলায় বলি এনজিও কর্মী


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনা |

​নেত্রকোনায় ভাইরাল হওয়ার নেশা এবং ঋণের কিস্তি থেকে বাঁচতে এক এনজিও কর্মীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জেলহাজতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সীমা সরকার নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। মডেল হওয়ার উচ্চাভিলাষ এবং ফেসবুক থেকে অর্থ উপার্জনের নেশায় মত্ত এই তরুণীর এমন কর্মকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ:

ভুক্তভোগী ওই যুবক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মূল দায়িত্ব ছিল হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষদের মাঝে ঋণ বিতরণ এবং কিস্তি সংগ্রহ করা। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সূত্র ধরেই সীমা সরকারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। জানা গেছে, সীমা সরকার ওই এনজিও থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন।

পরিকল্পিত প্রেমের ফাঁদ:

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে অপরাগ হওয়ায় সীমা ওই এনজিও কর্মীকে কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ঋণের টাকা মওকুফ করানো অথবা ওই যুবককে বিয়ে করতে বাধ্য করা। এক পর্যায়ে সীমা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু ওই যুবক বিয়েতে রাজি না হওয়ায় সীমা তার ওপর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।

মিথ্যা মামলা ও ভাইরাল হওয়ার নেশা:

নিজের পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে দেখে সীমা সরকার ওই যুবকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ওই এনজিও কর্মীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

​এদিকে, এই ঘটনাকে পুঁজি করে রাতারাতি ‘ভাইরাল’ হওয়ার নেশায় মেতে ওঠেন সীমা। একদিকে নিরপরাধ যুবককে হয়রানি, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে তিনি নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ভাইরাল হওয়ার নেশায় তিনি নিজের নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্কের কথা স্বীকার করতেও দ্বিধাবোধ করেননি, যা সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার বাইরে।

সচেতন মহলের উদ্বেগ:

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন এনজিও কর্মীর এভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া এবং আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সস্তা জনপ্রিয়তা এবং ঋণের দায় থেকে বাঁচতে সীমার এই নোংরা নাটক সুস্থ সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।

​ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ যুবকের মুক্তি এবং ষড়যন্ত্রকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ