নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৫ নম্বর আখাইলকুড়া ইউনিয়নে তোফায়েল আহমদকে অপহরণ করে বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পালপুর গ্রামের ফখরুজ্জামান, শফিউল আলম জগলুসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবারের এই ঘটনা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নয়; বরং মাছুয়াখালী জলমহালের দখল ও মাছ আহরণকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
জলমহাল ইজারা ও বিরোধের পটভূমি
অভিযুক্ত পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার টপকা, চাতল, চমক ডিগা ও পূর্ব শেওয়াইজুরী এলাকায় অবস্থিত মাছুয়াখালী জলমহালটি শেওয়াইজুরী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি রসময় সরকার ছয় বছরের জন্য ইজারা পান। ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত স্মারকপত্রের মাধ্যমে জলমহালটির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযুক্তদের অভিযোগ, সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ ইজারা বাতিলের কথা বলে ওই জলমহাল থেকে জোরপূর্বক মাছ আহরণ করেন। এ নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে শামীম আহমদ জলমহালের অর্ধেক মাছ আহরণের কথা স্বীকার করেন এবং অবশিষ্ট মাছ ও সরকারি ইজারার ২০ লাখ টাকা রসময় সরকারকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে মাছ আহরণ করা হলেও সেই টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
জলমহালে তোফায়েল আটক ও ভিডিও ফুটেজের দাবি
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন তোফায়েল আহমদসহ ১০-১৫ জন ব্যক্তি মাছুয়াখালী জলমহালে গিয়ে দখল ও মাছ আহরণের চেষ্টা করেন। ইজারাদারের লোকজন বাধা দিলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও তোফায়েল আটক হন। পরে তাঁকে স্থানীয় মুরুব্বি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফখরুজ্জামানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
ফখরুজ্জামান দাবি করেন, তিনি জুমার নামাজে যাওয়ার পথে বিষয়টি জানতে পেরে তোফায়েলকে বাড়িতে নিরাপদ রাখতে এবং তাঁর গায়ে যেন কেউ হাত না তোলে, সে বিষয়ে নির্দেশ দেন। নামাজ শেষে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তোফায়েলের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান যে, সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদের নির্দেশেই তাঁরা জলমহালে মাছ আহরণ ও দখল নিতে গিয়েছিলেন। এ বক্তব্যের সপক্ষে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেছে অভিযুক্ত পক্ষ।
পুলিশের উপস্থিতি ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তোফায়েলের বক্তব্য শোনার পর তাঁকে নিয়ে যায়। অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, পুলিশ যখন তোফায়েলকে নিয়ে যায়, তখন ধারণকৃত ভিডিওতে তাঁর শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
অন্যদিকে, তোফায়েলের চাচার অভিযোগ সম্পূর্ণ উল্টো। তোফায়েলের চাচা মিজান আহমদ দাবি করেন, পুলিশ তাঁর ভাতিজাকে নিয়ে যাওয়ার পর রাস্তা থেকে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ তাঁকে জোর করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তোফায়েলের মাথায় কাটা-ছেঁড়ার দাগ ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
যুগান্তর প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে অভিযুক্ত পক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কোনো সম্পর্ক নেই। ফখরুজ্জামান বলেন, “প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করলে নিরপরাধ মানুষের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।” দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদটিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :