চিহ্নিত ভূমিদস্যু ইয়াসিন আলী চুন্না ও কামরুলের ছত্রছায়ায় ‘নিউ সোনা’ ইটভাটা বেদখল


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:




মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর:

যশোর সদরের রূপদিয়ার ইটভাটা ব্যবসায়ী ফেরদৌস বিশ্বাস বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। অভিযুক্ত ভূমিদস্যু ইয়াসিন আলী চুন্না ও কামরুলের ছত্রছায়ায় একদল অপরাধী তাকে আদালত চত্বর থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে এবং সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে তার মালিকানাধীন ‘নিউ সোনা’ ইটভাটাটি দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও যেতে পারছেন না।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফেরদৌস বিশ্বাস বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর আমলী) আদালত, যশোরে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর: সিআর ৪৮৭০/২৪; ধারা: ৩৪১/৩৪২/৩৪৭/৩৬৪/৩৮৪/৫০০(২)/১০৯ দণ্ডবিধি)।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বলরামপুরের খোরশেদ বিশ্বাসের ছেলে ফেরদৌস বিশ্বাস ২০১২ সালে মনিরামপুর উত্তর পাড়া মৌজায় প্রায় ৩৫ বিঘা জমি নিয়ে ইটের ব্যবসা শুরু করেন। এর মধ্যে নিজের ১৬ বিঘা এবং বাৎসরিক লিজে নেওয়া জমিতে প্রথমে ‘শাপলা’ নামে এক অংশীদারের সাথে ভাটা পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সাল থেকে এককভাবে ‘নিউ সোনা’ নামে ভাটাটি চালিয়ে আসছিলেন।

​ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী জানান, গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি মামলায় হাজিরা দিতে তিনি আদালতে আসেন। সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে আদালত ভবনের সামনে থেকে রামনগরের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে ইয়াসিন আলী চুন্না ও গোপালপুরের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কামরুলসহ ৬ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। সন্ত্রাসীরা পেটে ও কানে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে অস্ত্রের মুখে একাধিক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুন্নার সহযোগী এই চক্রটি অত্যন্ত চতুর ও বিপজ্জনক। তাদের মধ্যে ফুলতলা-অভয়নগর অঞ্চলের নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা গ্রুপের সদস্যরাও যুক্ত রয়েছে। চুন্না নিজ গ্রামসহ ভাটপাড়া ও আশপাশের এলাকায় জমি জালিয়াতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

​ভাটা দখলের পাশাপাশি ভুক্তভোগী ফেরদৌস বিশ্বাস বিজ্ঞ মনিরামপুর দেওয়ানী আদালত, যশোরে একটি দেওয়ানী মামলাও করেছেন (মামলা নম্বর: দেওয়ানী ৩৩২/২৬)। উক্ত মামলায় ইয়াসিন আলী চুন্নাকে মূল আসামি করা হয়েছে। উত্তরপাড়া মৌজায় আরএস খতিয়ান ১৫১, ৫৯৭, ৫৯৬, ১৫২, ২৯৬, ৪৩১ ও ৬১২ এবং আরএস দাগ ২, ৩, ৬, ৭, ৮, ৯, ৪৮৭, ৪৮৮, ১০, ৪৮৫ ও ৪৯০-এ মোট ৪৯১ শতক জমির বৈধ মালিক ফেরদৌস বিশ্বাস।

​আদালত প্রাঙ্গণ থেকে অপহরণ করে কোটি টাকার ব্যবসায়িক সম্পত্তি গ্রাস করার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা চিহ্নিত ভূমিদস্যু চুন্না এবং তার দোসরদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ