_____________________________________বিশেষ দ্রষ্টব্য: তথ্যের অবাধ প্রবাহ, সত্য প্রকাশ এবং সাংবাদিকতার সার্বিক সুরক্ষার স্বার্থে এই সম্পাদকীয় বার্তাটি প্রকাশ করা হলো। আমাদের কলম শোষিতের পক্ষে এবং সত্যের সন্ধানে অবিচল।
সম্পাদকীয় বার্তা:
তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সত্য অনুসন্ধানই গণমাধ্যমের প্রাণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আপামর সাংবাদিক সমাজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের রুটিন তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের স্বাভাবিক কাজকে যেভাবে ভিন্ন চশমায় দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা কেবল উদ্বেগজনকই নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরার এক সূক্ষ্ম পাঁয়তারা।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সূত্র খোঁজা, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে সত্য উন্মোচন করা কোনো 'নজরদারি' বা 'অপরাধ' নয়; এটি একজন পেশাদার সাংবাদিকের প্রাত্যহিক রুটিন কাজ এবং সাংবিধানিক অধিকার।
যখনই এই স্বাভাবিক তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে অপরাধের তকমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তখনই রাষ্ট্র ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা সেই পুরনো ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার ভূত চাড়া দিয়ে ওঠে। অতীতের কালো আইন এবং রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির মাধ্যমে যেভাবে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল, বর্তমানের এই নতুন প্রবণতা আমাদের সেই অন্ধকারের দিনগুলোর কথাই মনে করিয়ে দেয়।
সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান:
দেশের সর্বস্তরের সাংবাদিক ভাই ও বোনদের প্রতি আমাদের আহ্বান—আসুন, সকল ভয়-ভীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির ঊর্ধ্বে উঠে আমরা আমাদের পেশাগত সততা ও অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হই। কোনো কালো আইন বা পরোক্ষ হুমকি যেন আমাদের সত্য প্রকাশের পথ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।
রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের প্রতি দাবি:
আমরা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি—
১. সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করুন।
২. সকল ঔপনিবেশিক ও ফ্যাসিস্ট মানসিকতার নজরদারি বন্ধ করুন।
৩. তথ্যের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সহনশীল ভূমিকা পালন করুন।
"গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করে কোনো রাষ্ট্র কখনো আলোর মুখ দেখতে পারে না। সত্যের সন্ধানে আমাদের কলম সচল ছিল, আছে এবং থাকবে।"
আপনার মতামত লিখুন :