ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নির্মমভাবে পিটিয়ে সাংবাদিক হত্যা: প্রশাসনের নীরব কেন ?


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নির্মমভাবে পিটিয়ে সাংবাদিক হত্যা: প্রশাসনের নীরব কেন ? 
___________________________________


খুনিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক তরুণ ও সাহসী সাংবাদিককে প্রকাশ্যে ডেকে এনে নৃশংস গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে—যা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং মুক্ত সাংবাদিকতার উপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিহত সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম (৩০), কসবা উপজেলার শিমরাইল গ্রামের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা ও শফিকুল ইসলামের ছেলে। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কসবা থানার ওসি নাজনীন সুলতানা। তবে ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মূল অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ী চক্র প্রভাব বিস্তার করে আসছে এবং তাদের সঙ্গে কিছু অসাধু প্রশাসনিক ব্যক্তি ও তথাকথিত সাংবাদিকদের যোগসাজশ রয়েছে। এই চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভিডিও প্রতিবেদন তৈরি করে প্রকাশ করতেন দ্বীন ইসলাম। তার এই প্রতিবাদী অবস্থানই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম ও মা পারুল বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলায় একটি প্রভাবশালী চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে শেষ করে দিয়েছে।” তারা সরাসরি সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জাতীয় সম্মিলিত প্রেসক্লাবের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রিমন হোসেন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “দ্বীন ইসলাম ছিল একজন সাহসী সাংবাদিক। মাদকের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট। অথচ তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো, আর খুনিরা এখনো গ্রেফতার হয়নি—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য ভয়ংকর হুমকি।”
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “একজন সাংবাদিককে এভাবে পিটিয়ে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি গোটা দেশের সাংবাদিক সমাজের জন্য অশনিসংকেত।” তারা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তারা আরও উল্লেখ করেন, নিহত দ্বীন ইসলামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সোচ্চার ছিলেন এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দিতেন না। এর ফলে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি কিছুদিন আগে কুমিল্লা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামে ফিরে এসে নির্মম হত্যার শিকার হন।

বিএমএসএফ নেতারা মনে করছেন, দ্বীন ইসলামের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হলে এই হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব।

এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে নিঃস্ব করেনি, বরং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা আন্তরিকভাবে এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ