_____________________________________
নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী। শপথ গ্রহণ শেষে দপ্তরে নিজের প্রথম কর্মদিবসেই তিনি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলুষমুক্ত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বলে সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, গত কয়েক দশকে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির কারণে নেপালের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মতে:
"শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে জ্ঞান অর্জনের পবিত্র স্থান, কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের আড্ডাখানা নয়। আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নয়।"
— নেপালের প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর সিদ্ধান্ত দেশটির সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে 'নতুন নেপালের নতুন শুরু' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এটি গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার একটি অপচেষ্টা এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো শিক্ষার্থী দলীয় ব্যানারে মিছিল, মিটিং বা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারবেন না। আইন অমান্য করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে নেপালের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :