ভোলাহাট রেশম উন্নয়ন বোর্ডের জোনাল অফিস দুর্নীতির আখড়া!
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা!! পুকুর চুরি নয়, এ যেন সমুদ্র চুরি!!(২য় ও শেষ পর্ব)
_______________________________
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের জোনাল অফিস যেন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ক্ষয়িষ্ণু রেশম চাষকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অনুদানে পলুঘর নির্মাণ, তুঁতচারা রোপণ, প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত রেশমচাষীদের।
সূত্র জানায়, সরকার প্রত্যেক রেশম চাষী (বসনী) কে ১ বিঘা জমিতে তুঁতচারা রোপণের জন্য ২৫ হাজার টাকা, পলুঘর নির্মাণ বাবদ ১ লাখ টাকা এবং প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের উপকরণ (ডালা, চন্দ্রকী, ঘরাশুলা ও ৩২টি নেট) প্রদান করে। পাশাপাশি ২৬ দিনের প্রশিক্ষণের জন্য দেওয়া হয় ১৩ হাজার টাকা ভাতা এবং বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় পলুপোকার ডিম।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে—ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ধরমপুর গ্রামের বসনী তোফাজ্জল হোসেন জানান, অনেক ক্ষেত্রে মাত্র ৩-৫ কাঠা জমিকে কাগজে ১ বিঘা দেখিয়ে বরাদ্দ তুলে নেওয়া হয়। ঘর নির্মাণ বাবদ অর্থ বরাদ্দ দেখালেও বাস্তবে নিম্নমানের ঘর নির্মাণ বা আদৌ ঘর না করে অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আসিরুদ্দিনের ছেলে সাইদের নামে পুরনো ঘর দেখিয়ে নতুন ঘরের বরাদ্দ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ইমামনগর গ্রামের বাসেদ আলী জানান, তাকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি ৩০ হাজার টাকা অফিসের লোকজন ভাগ করে নেন। অনেকেই অনুদান নেয়ার পর পলুপালন বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক তথাকথিত ‘পলুঘর’ গোয়ালঘর, খড়ির ঘর এমনকি টয়লেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গোহালবাড়ী গ্রামের ফারহানা খাতুনের পলুঘর কোড-২৪৬ এ অনিয়মের এমন চিত্র মিলেছে।
আরও অভিযোগ, উন্নত জাতের পলুপোকার ডিম সরবরাহ করা হয় না। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পোকা নষ্ট হয়ে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গবেষণাগার থাকলেও কার্যকর গবেষণার সুফল মিলছে না বলে দাবি চাষিদের।
ঝাউবোনা গ্রামের রেশমগুটি ব্যবসায়ী মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, বর্তমানে যারা বীজ নিচ্ছেন, তাদের অনেকেই বাড়িতে এনে নষ্ট করে ফেলছেন। প্রয়োজনীয় গুটি না পাওয়ায় সূতা উৎপাদন কার্যক্রম থমকে গেছে। তিনি দাবি করেন, সরকার যদি গুটির মূল্য প্রতি মণ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে নিশ্চিত ক্রয় করে, তাহলে এই খাতটি টিকে থাকতে পারবে।
অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের সাথে জড়িত একাধিক ব্যক্তি—সহকারী পরিচালক তরিকুল ইসলাম, বোর্ড সদস্য (বসনী প্রতিনিধি) সমিরুদ্দিন, অস্থায়ী কর্মচারী মনিরুল ইসলাম ও বসনী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেকামউদ্দিন একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এসব বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার সহকারী পরিচালক মোঃ তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি:
রেশম শিল্প রক্ষায়—
দুর্নীতি বন্ধ
ভুয়া সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
প্রকৃত চাষীদের অগ্রাধিকার
উচ্চমানের বীজ সরবরাহ
গুটির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ
বিদেশি রেশম পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ
–এই পদক্ষেপগুলো জরুরি।
এম. এস. আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
আপনার মতামত লিখুন :