তাহিরপুরে নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরায় বাধা, মৎস্যজীবিদের লিখিত অভিযোগ
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ০২ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের বড়খলা ও আনোয়ারপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি মৎস্যজীবি পরিবার চলতি নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মৃত হাজী বাদশা মিয়ার ছেলে মো. আক্তার হোসেন নদীটি নিজের ইজারায় নেওয়া দাবি করে তাদের মাছ ধরায় বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২ নভেম্বর) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবিদের পক্ষে রবি, গিয়াস উদ্দিন, যতীন্দ্র বর্মণ, দিগেন্দ্র বর্মণ, মনবিশাল, ইসলাম নুর, সুহেলমান, নিজাম ও সুহেল মিয়া স্বাক্ষরিত এক লিখিত অভিযোগ তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে দাখিল করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আক্তার হোসেন নিয়মিত মৎস্যজীবিদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তাদের বড়শি, মাছ ও অন্যান্য জিনিসপত্র কেড়ে নেন এবং মারধর করেন। তিনি দাবি করেন যে, সরকারিভাবে নদীটি তার নামে ইজারা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মৎস্যজীবিদের ভাষ্য, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তারা জানান, ইজারার কাগজ দেখাতে বললে আক্তার হোসেন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে রাজি হননি।
মৎস্যজীবিরা বলেন, “আমাদের সংসার চলে এই নদীর মাছ ধরে। বড়শি নিয়ে নদীতে যেতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন অনাহারে দিন কাটছে।”
অভিযোগকারীদের পক্ষে রবি ও গিয়াস উদ্দিন জানান, “আমরা গরিব মৎস্যজীবি। বড়শি দিয়ে মাছ ধরাই আমাদের একমাত্র অবলম্বন। আক্তার হোসেন বাধা দেওয়ায় এখন আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
অভিযুক্ত আক্তার হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে তাহিরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
আপনার মতামত লিখুন :