পাঁচ বছরে ক্লাস না নিয়েই বেতন-ভাতা উত্তোলন — অনিয়মে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
পাঁচ বছরে ক্লাস না নিয়েই বেতন-ভাতা উত্তোলন — অনিয়মে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ
_____________________________
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশীপুর মুহাম্মদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় পাঁচ বছর ধরে ক্লাস না নিয়েও সরকারি নিয়মে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন ইংরেজি শিক্ষক হোসেন মিয়া।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলা উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বেতনভুক্ত সহকারী অধ্যাপক হোসেন মিয়া গত পাঁচ বছর ধরে মাদ্রাসায় একদিনও উপস্থিত হননি।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা কখনোই ওই শিক্ষককে ক্লাস নিতে দেখেননি, এমনকি অনেকেই তাকে চিনেনও না।
২০২১ সাল থেকে তিনি নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় কখনো তার স্বাক্ষর, আবার কখনো ছুটির এন্ট্রি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলা উদ্দিনের সহযোগিতায় শিক্ষক হোসেন মিয়া নিয়মিতভাবে সরকারি তহবিল থেকে বেতন-ভাতা ও বোনাস নিচ্ছেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মাওলানা আলা উদ্দিন বলেন, “এই নিয়ম আগের অধ্যক্ষের সময় থেকেই চলছে। নতুন কমিটি গঠনের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বেতন নথিতে স্বাক্ষর করতে হয়—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি, বিষয়টি পরে দেখা হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধ্যক্ষের অবহেলা ও অনিয়মের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি একাধিকবার আলোচনায় এলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক হোসেন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সাইফুল ইসলাম,
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
আপনার মতামত লিখুন :