গণঅভ্যুত্থয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
- প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড
গণঅভ্যুত্থয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
__________________________
গত বছরের জুলাই–অগাস্ট মাসে বাংলাদেশজুড়ে সংঘটিত ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত এক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণা করেছে বিশেষ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার দুপুরে ঢাকার সুরক্ষা–বেষ্টিত আদালত চত্বরে তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল সর্বসম্মত রায়ে এই আদেশ দেন।
রায়ে কী বলা হয়েছে
আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেসামরিক নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, গুম, নারকীয় নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে দিয়ে দমন-পীড়নের যে ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের সুস্পষ্ট উদাহরণ।
বিচারকরা বলেন, “নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রীয় সহিংসতা পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে বিস্তৃত প্যাটার্ন দেখা গেছে, তা ছিল পরিকল্পিত, সংগঠিত এবং সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশিত।”
প্রমাণ উপস্থাপন
মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ প্রায় ২৭৮টি ভিডিও–প্রমাণ, ১৭ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংগ্রহ করা নথি, ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যরা আদালতে আবেগঘন সাক্ষ্য দেন।
ট্রাইব্যুনাল মনে করে, উপস্থাপিত প্রমাণসমূহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোকে ‘অসন্দিগ্ধ’ভাবে প্রমাণ করেছে।
আদালত চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুরো আদালতপাড়ায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা। র্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আশপাশ এলাকায় টহল জোরদার করে। আদালত ভবনে প্রবেশ ছিল সীমিত, গণমাধ্যমকর্মীদেরও বিশেষ অনুমতিপত্র দিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়।
রায়ের পরপরই আদালত চত্বরে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা রায়কে স্বাগত জানালেও, কিছু রাজনৈতিক কর্মী রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া
রায় ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, সিভিল সোসাইটি এবং স্থানীয় মানবাধিকার পর্যবেক্ষক দলগুলো একে ‘বিচারের ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনগুলোর ভাষ্য, “গণঅভ্যুত্থানের সময় যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, তার ন্যায়বিচার দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ ছিল। এই রায় ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ
রায়কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো এই রায়কে ‘জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন’ বললেও, অভিযুক্তের দল রায়কে ‘বিচারিক প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
আইনজীবীদের বক্তব্য
অভিযুক্তের প্রধান আইনজীবী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “রায়কে আমরা মানি না। এটি একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট রায়। আমরা দ্রুতই আপিল বিভাগে আপিল করব।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, “এই রায় বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই—আদালত আবারও তা প্রমাণ করলেন।”
পরবর্তী পদক্ষেপ
আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আপিল গ্রহণ হলে মামলাটি পুনরায় বিচারিক পর্যায়ে যাবে। আপিল বিভাগ রায় বহাল রাখলে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা প্রদানের আবেদনই অভিযুক্তের শেষ সুযোগ হবে।
আপনার মতামত লিখুন :