ভয়ংকর অনলাইন জুয়াই নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য কিশোর কিশোরী


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:

শেখ শহিদুল ইসলাম মিঠু ব্যূরো প্রধান খুলনা



জুয়া হচ্ছে এক ধরনের প্রতারণার ফাঁদ, আর এ ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য কিশোর-কিশোরী, সারারাত মোবাইলে অনলাইনে জুয়ার আসরে মিলিত হয় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীরা, 
জুয়া খেলার মূলত নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ বা বস্তু বা পুরস্কার হিসাবে ধার্য করা হয় যেমন অনলাইন ক্যাসিনো অনলাইন লটারি টিকিট বা ক্যাচ কার্ড কেনা, খেলাধুলা সম্পর্কিত বাজি ধরা ইত্যাদি, বিভিন্ন অ্যাপ খুলে চালানো হয় অনলাইন জুয়া, যা খেলা যায় দিনরাত ২৪ ঘন্টা, আর এর ফলে খুলনা ফুলতলা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেকার যুবক সহ অনেকেই অনলাইন জুয়ার জড়িয়ে যাচ্ছে, অনেকেই কৌতূহলবশত অনলাইন জুয়া খেলা শুরু করলেও পরে নেশায় পড়ে যাচ্ছে, ঠিক যেমনটি হয় মাদকের ক্ষেত্রে, 
অনলাইন জুয়ার মানুষ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে জুয়া খেলার টাকা লেনদেন করছে, যে কেউ ইচ্ছা করলেই অতি সহজে মোবাইল বা কম্পিউটারে জুয়া খেলার অ্যাপ দিয়ে ঘরে বসেই একাউন্ট খুলে অনলাইনে জুয়া খেলতে পারে, সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য জুয়ার সাইটগুলো কমিশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে থাকে, এদেশে জুয়া নিষিদ্ধ হলেও জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল সহ অনলাইন প্লাটফর্মে প্রচারিত হতে দেখা যায়, 

অনলাইন জুয়াড়িদের একটি চক্র দেশের বাইরে থেকে এসব বিজ্ঞাপনের কার্যক্রম পরিচালনা করে প্রতিটি জুয়ার সাইট দেশের বাহিরে থেকে পরিচালিত হওয়ায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে,
ওয়ার্ল্ড গ্যাম্বলিং মার্কেট রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২২ সালে শুধু অনলাইন জুয়া বাজার মূল্য ছিল ৬৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার ২০২৩ সালে তা প্রায় ১১-৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে বিগত সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এই বাজার ৪.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের মধ্য তরুণদের সংখ্যায় বেশি, ফলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে লাখ লাখ তরুণ তরুণী, 
বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া বিভিন্ন রকমের ক্রিকেট বা ফুটবল বাজি, অনলাইন ক্যাসিনো, অনলাইন লুডু বা অনন্য গেমস লটারি বা প্রতিযোগিতা, এছাড়া ও,
ইত্যাদি ইত্যাদি, এগুলো সাধারণত মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিচালিত হয় ও মোবাইল ব্যাংকিং বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়,
অনলাইন জুয়া খেলার সামাজিক প্রভাব বেশ গভীর ও এটি সমাজে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, পারিবারিক সমস্যা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা তরুণ প্রজন্মের ক্ষতি, সামাজিক অপরাধ বূদ্ধি, মাদক ব্যবসায়ীদের মত জুয়ারিরাও সমাজ, দেশ জাতি পরিবারের শত্রু, তাই দেশ সমাজ ও জাতির বৃহত্তর অর্থে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত, এ জুয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা ও জরুরি, সর্বোপরি অনলাইন জুয়া বন্ধে সরকার, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ সুশীল সমাজ রাজনৈতিক দলসহ সবার সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন, 
বাংলাদেশে ১৯৭২ এর সংবিধানেই জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করা হয়, সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র জুয়া খেলা প্রতিরোধ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এছাড়া পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট,১৮৬৭ অনুযায়ী জুয়া খেলার জন্য ব্যবহুত হতো স্থান বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া খেলার ওয়েবসাইট 
লিংক এবং অ্যাপ্লিকেশন গুলো বন্ধ করার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে,

আসক্ত কিশোর -কিশোরী*মেধাশূন্য হচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীরা+সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা*নিরব ভূমিকায় প্রশাসন+


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ