মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর:
৭৫ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় এক তরুণ ও তার পরিবারকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ প্রাণনাশের হুমকি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালীদের চক্রের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, পথরোধ করে সরাসরি হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর এবং বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটানো হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর দাবি করেন ভুক্তভোগী তরুণ তামিম আবু উমামা। তিনি যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া (ঢাকা রোড) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তামিম বলেন, "আমরা একটি ভয়ঙ্কর মামলাবাজ, ষড়যোদ্ধা ও অর্থলোভী চক্রের নির্মম চক্রান্তের শিকার। যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া কদমতলা এলাকার আনোয়ার হোসেন, তার মেয়ে ফারজানা খাতুন ঐশী (২০) ও তার ভাই দেলোয়ার হোসেনসহ তাদের সহযোগীরা আমাদের পারিবারিক জীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তুলেছে।"
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তামিম জানান, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৫ মিনিটে তিনি যখন অফিসে যাচ্ছিলেন, তখন নীলগঞ্জ ভিসা অফিসের সামনে আনোয়ার হোসেনের লেলিয়ে দেওয়া ৩-৪ জন সন্ত্রাসী তার 'DMT 24-9598' নম্বরের গাড়িটির গতিরোধ করে। সন্ত্রাসীরা গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাকে শারীরিক লাঞ্ছিত করে। এই হামলার সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ তার মোবাইল ফোন ও গাড়ির ড্যাশ ক্যামেরায় ধারণ করা আছে বলে জানান তিনি।
শত্রুতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় আড়াই বছর আগে আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ঐশীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ের আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে মেয়ের বাবা অযৌক্তিক ও আকাশচুম্বী ৭৫ লাখ টাকা কাবিন দাবি করেন। একই সময়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রে ঐশীর চরিত্রগত নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ ও ছবি তাদের হাতে আসে। ফলে পারিবারিক সম্মান ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা এই বিয়ের প্রস্তাব বাতিল করেন।
বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আনোয়ার হোসেন চরম প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন উল্লেখ করে তামিম বলেন, গত আড়াই বছরে তার নামে ৬টি কাল্পনিক ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে বিজ্ঞ আদালতে ইতোমধ্যেই ৪টি মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়ে খারিজ হয়েছে এবং বাকি মামলাগুলোও বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিগত প্রায় দুই বছর ধরে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেন ও তার দলবল তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা বাড়ির ওপর ইটপাটকেল ছুঁড়ে ক্ষতিসাধন করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও, নিজেদের অপরাধ ঢাকতে তারা উল্টো 'ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়েছে' বলে কাল্পনিক অপপ্রচার চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা এক প্রভাবশালী আত্মীয়ের ভয় দেখিয়ে তামিম পরিবারের পক্ষ থেকে করা পূর্বের মানহানি মামলা (মামলা নং ১/২৫ ও পি ১৭৩/২৫) তুলে নিতে ক্রমাগত অনৈতিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। এর আগে সুরক্ষার জন্য তামিমের পরিবার কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি নং ১০৫৮, তারিখ: ১৪/০৩/২০২৫) করেছিলেন।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার শঙ্কাপ্রকাশ করে তামিম আবু উমামা স্থানীয় প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন এবং এই মিথ্যাবাদী ও মামলাবাজ চক্রের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে ফারজানা খাতুন ঐশী ও তার মায়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :