ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন,ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছায় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া সাদিয়া আক্তার (১৩) নামের এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হুমায়ুন কবির (৩০) নামের এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহত সাদিয়া আক্তার উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির একই গ্রামের নিকট প্রতিবেশী আব্দুস সালাম ওরফে ভোলার ছেলে। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেউলী গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতের মা মোছা. সালমা খাতুনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সোমবার রাতে (২১ সেপ্টেম্বর) দেউলী গ্রামের বটতলা মোড় থেকে মাদকাসক্ত বখাটে যুবক হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করে। সাদিয়ার মায়ের দাবি, তার মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন শেষে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। নিহত সাদিয়া স্থানীয় দেউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার দিন সাদিয়ার মা মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন এবং বাবা শহিদুল ইসলাম গাছের চারা নিয়ে মহেশপাড়া বাজারে ছিলেন। এই সুযোগে বাড়িতে কেউ না থাকায় প্রতিবেশী রাজুর ১০ বছরের মেয়ে মিম প্রথমে সাদিয়াকে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। মিমের ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।
পরে বাড়ির আশপাশের নারীদের মাধ্যমে নিহতের চাচা মাসুম বিল্লাহ ও প্রতিবেশী আব্দুর রহিম জানতে পারেন যে সাদিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় বাগআঁচড়া বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির নিয়মিত মাদকাসক্ত ছিল এবং অতীতেও সে সাদিয়াকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। ঘটনার পাঁচ দিন আগেও সাদিয়ার হাতে কিছু একটা দিতে দেখেছিলেন তার মা, যা নিয়ে মেয়েকে সতর্কও করা হয়েছিল।
খবর পেয়ে ঝিকরগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠান। প্রাথমিক পর্যায়ে ঝিকরগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়।
এদিকে থানা হাজতে পুলিশি হেফাজতে থাকা অভিযুক্তের বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে ডিউটি অফিসার এসআই ফিরোজ জানান, অফিসার ইনচার্জ ছুটিতে আছেন এবং ওসি (তদন্ত) স্টেশনে না থাকায় তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো ফুটেজ বা বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়। পরবর্তীতে সার্কেল এএসপি আরিফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেন।
আপনার মতামত লিখুন :