সম্পাদকীয় কলাম: পার্থিব মোহ, নিয়তির লিখন ও মানুষের দায়বদ্ধতা


FavIcon
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
  • প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জেনারেট ফটোকার্ড

ছবির ক্যাপশন:


এসএম জামাল, প্রধান সম্পাদক  | ঢাকা

​মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো ভালো থাকা। আর এই 'ভালো থাকা' নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতায় মানুষ কখনো কখনো এমন সব পথ বেছে নেয়, যা নৈতিকতার মানদণ্ডে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। প্রশ্ন ওঠে—যদি সব কিছুই মহান আল্লাহপাক রব্বুল আলামিনের লিখনে নির্ধারিত থাকে, তবে মানুষের অপরাধ করার দায়ভার কতটুকু? এই দার্শনিক জটিলতা ও বাস্তব জীবনের টানাপোড়েন নিয়েই আজকের এই বিশেষ পর্যালোচনা।

ভালো থাকার নেশা ও অপরাধের গোলকধাঁধা

সমাজবিজ্ঞানী ও ধর্মতাত্ত্বিকরা মনে করেন, মানুষের মধ্যে একটি অস্থিরতা কাজ করে যা তাকে দ্রুত সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে প্ররোচিত করে। এই অস্থিরতা থেকেই জন্ম নেয় দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং পরশ্রীকাতরতা। অনেকে যুক্তি দেন, "দুনিয়াতে টিকে থাকতে হলে কিছুটা ছাড় দিতেই হয়।" কিন্তু এই 'ছাড়' দিতে গিয়েই মানুষ আইন ও নৈতিকতার সীমারেখা অতিক্রম করে ফেলে।

ভাগ্যের লিখন ও কর্মফল

ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী, আল্লাহ রব্বুল আলামিন মানুষের ভাগ্যের লিখন লিখে রেখেছেন—এ কথা ধ্রুব সত্য। কিন্তু পাশাপাশি এটিও সত্য যে, আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন 'বিবেচনাবোধ' বা ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে বারবার মানুষের 'কর্ম' বা 'আমল'-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

​একজন প্রখ্যাত চিন্তাবিদ বলেন, "ভাগ্যের লিখনে যা আছে তা ঘটবেই, কিন্তু সেই ঘটার মাধ্যম হিসেবে যদি আমার হাত দিয়ে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়, তবে বিচার তো আমারই হবে।" অর্থাৎ, দুনিয়ার বিচার ব্যবস্থা যেমন অপরাধকে ক্ষমা করে না, তেমনি পরকালীন বিচারেও প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে।

অপরাধের প্রয়োজনীয়তা কি আদৌ আছে?

আপনি যে প্রশ্নটি তুলেছেন—'যদি ভাগ্যে সব লেখা থাকে, তবে অপরাধ করার প্রয়োজন কী?'—এটি একটি গভীর উপলব্ধি। এর উত্তর হলো: মানুষের পরীক্ষার ক্ষেত্রই হলো এই পৃথিবী। নিয়তি বা ভাগ্য আমাদের গন্তব্য নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু সেই গন্তব্যে পৌঁছানোর পথটি (সৎ নাকি অসৎ) বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আমাদের নিজেদের। যদি ভাগ্যের দোহাই দিয়ে অপরাধ করা বৈধ হতো, তবে সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ত।

ভালো থাকার অর্থ কেবল পার্থিব ভোগ-বিলাস নয়, বরং মানসিক শান্তি। অন্যায় পথে অর্জিত সম্পদ হয়তো সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কেড়ে নেয়। নিয়তি বা ভাগ্যের ওপর বিশ্বাস রেখেও সৎ পথে পরিশ্রম করাটাই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। দুনিয়ার বিচারকে ভয় না করে, নিজের বিবেক ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে লক্ষ্য রাখলেই পৃথিবীটা সুন্দর এবং ভালো থাকার জন্য যোগ্য স্থানে পরিণত হবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ