1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ২৪ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ ইং
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যু।
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
বাবুল রহমান রবিন
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর চিকিৎসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নবজাতক কন্যাশিশু এবং রাত ১২টার দিকে প্রসূতি মা শিরিন আক্তার (২৬) মারা যান। শিরিন আক্তার ফুলছড়ি উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার কছের সরদারের মেয়ে এবং সবুজ মিয়ার স্ত্রী।
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রসব বেদনা উঠলে শিরিন আক্তারকে ডেলিভারির জন্য বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন এবং অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তান প্রসব হয়। তবে রাত ১১টার দিকে নবজাতকের মৃত্যু হয়।
এরপর ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতাল ভাঙচুর করলে চিকিৎসকসহ হাসপাতালের কর্মীরা পালিয়ে যান। এ সময় প্রসূতি মায়ের জরুরি রক্ত প্রয়োজন হলেও চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে শিরিন আক্তারের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে শিরিন আক্তারের মৃত্যু হয়।
শিরিন আক্তারের স্বামী সবুজ মিয়া ও পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব থাকা সত্ত্বেও সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এর আগে এই হাসপাতালে একাধিক নবজাতক ও প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তারা হাসপাতালটি বন্ধ করার পাশাপাশি দোষী চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানান।
জুমার নামাজের পর নিহত শিরিন আক্তার ও তার নবজাতকের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডা. আব্দুল হাকিম দাবি করেন, সিজারিয়ান অপারেশন সঠিকভাবেই সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে নবজাতকের মৃত্যুর পর স্থানীয়দের হামলার কারণে চিকিৎসক ও নার্সরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ফলে প্রসূতি মায়ের চিকিৎসা সঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনোরঞ্জন কুমার বর্মন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস এম জামান
প্রধান সম্পাদক
যোগাযোগ: Head Office:
86/ purana palton,Dhaka 1000
মোবাইল: 01906337172
ইমেইল: pratidinerkonthosor@gmail.com
©দৈনিক প্রতিদিনের কন্ঠস্বর