হাকিকুল ইসলাম খোকন, এমডি নাসির, হেলাল মাহমুদ ও আরিফুর রহমান আরিফ:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন ভরাডুবির পর হারের মূল কারণ হিসেবে ‘ইরান যুদ্ধ’কে সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রিপাবলিকানদের হাত থেকে দুই কক্ষের (সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ) নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি নিজের এই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া জানান।
ভ্যান্স তাঁর পোস্টে স্পষ্টভাবে লেখেন, ‘আমাদের পরাজয়ের মূল কারণ হলো যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেও গতকাল রাতে এমনটি স্বীকার করেছেন।’
২০২৪-এর সমর্থকদের ক্ষোভ ও হতাশা
তথ্য ও জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, নির্বাচনে দলের সমর্থকদের ভোটার উপস্থিতি বেশ ভালোই ছিল। তবে আসল সমস্যা ছিল—যেসব ভোটার ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘ট্রাম্প-ভ্যান্স’ জুটিকে সমর্থন দিয়ে বিজয়ী করেছিলেন, তাঁদের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে ২০২৬ সালে এসে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
সামনের পথ চলা ও সততার আহ্বান
ভবিষ্যতের রূপরেখা নিয়ে ইঙ্গিত করে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা কেন হেরেছি, তা আজ সবাই জানে। এরপর আমাদের পরবর্তী রাজনৈতিক পথচলা কেমন হবে, তা নিয়ে যে কোনো বস্তুনিষ্ঠ ও সৎ আলোচনা শুরু করতে হলে যুদ্ধের বিষয়টি দিয়েই শুরু করতে হবে।’
যারা সংঘাত অব্যাহত রাখার পক্ষে ছিলেন তাঁদের উদ্দেশ্যে তিনি বেশ তির্যক মন্তব্য করে বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়াটা এই যুদ্ধের পক্ষে একটি উপযুক্ত মূল্য বা লাভজনক চুক্তি, তবে তাঁদের সেই যুক্তিটি অন্তত জনগণের সামনে সততার সাথে তুলে ধরা উচিত।’
যে চার কারণে মুখ ফিরিয়েছেন ভোটাররা
উপদেষ্টা ও ভোটারদের তথ্য বিশ্লেষণ করে জেডি ভ্যান্স রিপাবলিকান ভোটারদের বিপরীতমুখী অবস্থান নেওয়ার পেছনে প্রধান চারটি কারণ চিহ্নিত করেছেন:
১. ইরান যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
২. জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মূল মনোযোগ আনা।
৩. মূল ‘আমেরিকা ফাস্ট’ (America First) নীতিতে স্থির থাকা।
৪. ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সম্পর্কের পুনর্বিবেচনা বা পরিবর্তন ঘটানো।
সবশেষে হতাশ ও ক্ষুব্ধ দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, এই পরিস্থিতিতে তাঁদের ক্ষোভ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তবে এই ক্ষোভ ও রাজনৈতিক শক্তিকে জলাঞ্জলি না দিয়ে, আগামীতে নিজেদের সমমনা রিপাবলিকান প্রার্থীদের বিজয়ী করার কাজে নামার আহ্বান জানান তিনি।