হাকিকুল ইসলাম খোকন, এমডি নাসির, হেলাল মাহমুদ ও আরিফুর রহমান আরিফ :
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাট পার্টির হাতে যাওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে—নতুন এই কংগ্রেসি সংখ্যাগরিষ্ঠতা কি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামাতে সক্ষম হবে?
মঙ্গলবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরণের বিপর্যয়ের পেছনে দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর ঘটনা অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এক ফক্স নিউজ সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে নির্বাচনে ট্রাম্পবিরোধী জনমতের পেছনে ‘ইরান যুদ্ধ’ একটি বড় ভূমিকা রেখেছে।
আগামী বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিতে যাওয়া নতুন কংগ্রেসের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কী ধরনের রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জে পড়তে হতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন:
অর্থায়ন আটকে দেওয়ার কৌশল
আইনপ্রণেতারা আগামী ডিসেম্বরে বর্তমান সরকারের অর্থায়ন বিলের মেয়াদ শেষ হলে নতুন সামরিক বাজেট ও অতিরিক্ত যুদ্ধ বরাদ্দ আটকে দিতে পারেন। তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক জেমস বয়েজ মনে করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা অবস্থায় হুট করে বাজেট বন্ধ করা বেশ ঝুঁকি ও জটিলতার জন্ম দেবে, কারণ এতে সেনাদের জীবন সংকটে ফেলার রাজনৈতিক অভিযোগ উঠতে পারে।
আইনি সীমাবদ্ধতা ও 'ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন'
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ আইন প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার সুযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সংগ্রেসি অনুমোদন না থাকলে ৬০ দিনের মধ্যে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট এতে ভেটো দিলে তা অকার্যকর করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। নির্বাচনের সম্ভাব্য আসনবণ্টন অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটদের হাতে এই বিশাল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
ট্রাম্পের মেয়াদের মানসিকতা ও কূটনৈতিক পথ
দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ হওয়ায় ট্রাম্পকে আর পরবর্তী কোনো নির্বাচনে লড়তে হবে না। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনড় থাকতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে আশার কথা হলো—ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন এবং সম্প্রতি সমঝোতার উদ্দেশ্যে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ডেমোক্র্যাটদের এই জয় ট্রাম্পের ওপর প্রবল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করলেও একতরফাভাবে যুদ্ধ পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া তাদের পক্ষে বেশ জটিল এক আইনি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।