নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপন জারি থাকলেও বাস্তবে তা কড়াকড়িভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুল অতিরিক্ত ভর্তি ফি, সেশন চার্জ এবং অন্যান্য খাতের নামে অভিভাবকদের কাছ থেকে চড়া অর্থ আদায় করছে। অথচ সরকারের নীতিমালায় শিক্ষার্থী ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ বা অযৌক্তিক ফি নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রায়ই প্রজ্ঞাপন জারি করে বলা হয় যে, কোমলমতি শিশুদের ভর্তি বা সাধারণ শিক্ষাক্রমে অতিরিক্ত কোনো আর্থিক বোঝা চাপানো যাবে না। বিশেষ করে সরকারি ও এমপিওভুক্ত স্কুলগুলোতে ভর্তির ফি সম্পূর্ণ সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হয়। এমনকি সাধারণ ও বেসরকারি স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সেশন চার্জ বা অযৌক্তিক ফি আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার পথ সুগম করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় বাণিজ্যিকীকরণ রোধ করা।
প্রদত্ত ছবিতে দেখা যায়, ঢাকার উত্তরার ‘Life Preparatory School (LPS)’ নামক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবর্ষ ২০২৭-এর প্লে গ্রুপ, নার্সারি ও কেজি শ্রেণির ভর্তি তথ্যে বড় অঙ্কের ফি ধার্য করা হয়েছে:
একটি প্রাথমিক স্তরের ক্লাসে ভর্তির জন্য এভাবে প্রায় ২৫ হাজার টাকা আদায় করা সাধারণ অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত দুর্বিষহ। সরকারের প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত সেশন চার্জ ও অন্যান্য খাতের নামে এমন ফি আদায়ের কারণে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু অসাধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ের অভাব এবং সঠিক তদারকির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ সরকারের নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, অভিভাবকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ফি আদায় করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
অভিভাবক মহলের দাবি, সরকারি প্রজ্ঞাপন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে যদি কঠোরভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হয় এবং অতিরিক্ত ফি আদায়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবেই সাধারণ মানুষ প্রকৃত সুফল পাবে। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধে প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।