এভিয়েশন ম্যানেজার হামিদুল্লাহ সাদেক ও ডিজিএম এম এম মজিবুর রহমানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ; সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা, বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেওয়ার আহ্বান
____________________________________________
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন পদ্মা অয়েল পিএলসির এভিয়েশন বিভাগের ম্যানেজার মো. হামিদুল্লাহ সাদেক ও ঢাকা অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এম এম মজিবুর রহমানকে জড়িয়ে জ্বালানি তেল চুরি ও কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগে প্রচারিত সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা। তাঁদের দাবি, তেল চুরি কিংবা এ-সংক্রান্ত কোনো সিন্ডিকেট পরিচালনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সম্পূর্ণ ভিন্ন দায়িত্ব ও কর্মপরিধিতে নিয়োজিত তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও বিভাগীয় দায়িত্বের বিবরণে জানা যায়, পদ্মা অয়েল পিএলসিতে জ্বালানি তেল পরিবহন, মজুত, সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম দেখভালের জন্য পৃথক পরিচালন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ রয়েছে। অন্যদিকে এভিয়েশন বিভাগ একটি স্বতন্ত্র বিভাগ, যার কাজ বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এভিয়েশন কার্যক্রম, এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সমন্বয়, বিপণন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা। অর্থাৎ তেল পরিবহন, মজুত ও সাধারণ বিতরণ ব্যবস্থাপনা এভিয়েশন বিভাগের দায়িত্ব নয়। ফলে এসব কার্যক্রমের কোনো অনিয়ম বা চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে জড়িয়ে অভিযোগ প্রচারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতায় এভিয়েশন বিভাগের দায়িত্বে হামিদুল্লাহ সাদেক
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান বিমান যোগাযোগকেন্দ্র ও আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, এ বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩১৬টি উড়োজাহাজের ফ্লাইট মুভমেন্ট (উড্ডয়ন ও অবতরণ) পরিচালিত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্স এ বিমানবন্দর ব্যবহার করে। বিপুলসংখ্যক ফ্লাইটের কারণে জ্বালানি সরবরাহের সমন্বয়, এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ ও এভিয়েশন কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়।
পদ্মা অয়েল পিএলসির এভিয়েশন বিভাগের ম্যানেজার মো. হামিদুল্লাহ সাদেক ২০০৫ সালের ১ আগস্ট থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে কোম্পানি তাঁকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য। তাঁর দাবি, তিনি এভিয়েশন কার্যক্রম, বিপণন এবং দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তেল পরিবহন, মজুত ও সাধারণ বিতরণ তাঁর বিভাগের আওতাভুক্ত নয়। তাই এসব কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে তেল চুরি বা সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তিনি এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর দায়িত্ব ও কর্মপরিধি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য না জেনেই বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
এম এম মজিবুর রহমানের বক্তব্য: আমার দায়িত্বের সঙ্গে এসব কার্যক্রমের সম্পর্ক নেই
অন্যদিকে ডিজিএম এম এম মজিবুর রহমানও তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, 'জ্বালানি তেল পরিবহন, মজুত কিংবা বিতরণ কার্যক্রম আমার দায়িত্বাধীন নয়। এসব দেখভালের জন্য পদ্মা অয়েলে পৃথক বিভাগ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রয়েছেন। সেখানে কোনো অনিয়ম বা চুরির ঘটনা ঘটে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগই তা বলতে পারবে। অথচ আমাকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে আমার দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। কেন বা কী উদ্দেশ্যে এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা আমার বোধগম্য নয়। আপনারা বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন।'
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো ঘটনায় একজন কর্মকর্তাকে জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান
সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচারিত তেল চুরি ও সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে প্রচারণা চালানো তাঁদের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।
তাঁরা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগ যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস, প্রচার বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা দায়িত্ব বণ্টন, প্রামাণ্য নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি।
পদ্মা অয়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে তেল চুরি বা দুর্নীতির ঘটনা ঘটে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করাও গ্রহণযোগ্য নয়। সত্য ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ এবং অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়াই হোক সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব।