নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতি ও শিক্ষাবাণিজ্য বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন সংক্ষুব্ধ নাগরিক অথই নূরুল আমিন। শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে আজ (৫ নভেম্বর ২০২৬) রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এই মন্তব্য ও প্রস্তাবনা পেশ করেন।
তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা খাতে যুগ যুগ ধরে অসাধু মহলের প্রভাব ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির কারণে দেশের লাখ লাখ অভিভাবক সন্তাদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। সরকার বদল হলেও শিক্ষা ব্যবস্থার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই দুর্নীতি ও বাণিজ্য বন্ধ করতে না পারলে তা আগামী প্রজন্মের কাছে সরকারের বড় ব্যর্থতা হিসেবেই গণ্য হবে।
শিক্ষা খাতের বিশাল বাজেট ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরে অথই নূরুল আমিন প্রশ্ন তোলেন, সরকার যদি শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকার মতো বিশাল বাজেট প্রস্তাব করে, তবে তার সুফল সাধারণ শিক্ষার্থীরা কতটুকু পাচ্ছে? তিনি জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী অভিভাবকের বিপুল খরচে কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়াম ও বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থীর পেছনে এত বড় সরকারি বাজেট ব্যয় হওয়া সত্ত্বেও অভিভাবকরা নিঃস্ব হচ্ছেন এবং সরকারের কাঙ্ক্ষিত সুনামও অর্জিত হচ্ছে না।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের বাইরে অন্যান্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বই সরবরাহ করার পরও শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক অতিরিক্ত নিজস্ব বই পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে শিশু শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত পাঠ্যবোঝার শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়গুলোতেও চড়া হারে মাসিক বেতন ও সীমাহীন আনুষঙ্গিক খরচ আদায় করা হচ্ছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিকে তিনি "শিক্ষা খাতে জুয়া খেলা" হিসেবে অভিহিত করেন, যেখানে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে তিনি বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রস্তাব পেশ করেন:
তিনি বিশ্বাস করেন, এই ধরনের যুগোপযোগী ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিক্ষা খাতের সকল রহস্যময় দুর্নীতি ও বাণিজ্য এক মুহূর্তে বন্ধ হবে। পাশাপাশি এই আধুনিক শিক্ষানীতি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও অনুসরণীয় মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে এবং এর মাধ্যমে জাতিসংঘ, ইউনেস্কোসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।