নিজস্ব প্রতিবেদক | সুনামগঞ্জ
বিশ্বাস করে কষ্টার্জিত টাকা ধার দিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সুনামগঞ্জের আবু হানিফ—যিনি স্থানীয়ভাবে ‘সাথী হিজড়া’ নামে পরিচিত—তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার নেওয়া কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাওনাদারদের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করেন আবু হানিফ। এই পরিচয়ের সুবাদেই তিনি বিভিন্ন সময়ে পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিশ্বাস স্থাপন করে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে লাখ লাখ টাকা ধার নেন। কথামতো নির্ধারিত সময়ে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তিনি তা আর দেননি।
পাওনাদারদের অভিযোগ ও হয়রানি:
ভুক্তভোগীরা জানান, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে আবু হানিফ টালবাহানা শুরু করেন। এমনকি টাকা পরিশোধের তাগিদ দিলে উল্টো মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা। বর্তমানে তার সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে এবং তিনি নাগালের বাইরে চলে গেছেন।
আইনি প্রেক্ষাপট ও করণীয়:
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্পর্কের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া আর্থিক লেনদেন যখন বিরোধে রূপ নেয়, তখন আইনি সুরক্ষা পেতে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রমাণের প্রয়োজন হয়। অভিযোগকারীদের কাছে যদি ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) লেনদেনের রসিদ, লিখিত চুক্তি কিংবা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সংবলিত বার্তা বা কল রেকর্ড থাকে, তবে তা জোরালো প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র একপক্ষীয় অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে সরাসরি অপরাধী বলা যায় না। বিষয়টি প্রতারণা কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে লেনদেনের প্রকৃত তথ্য, প্রমাণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফলের ওপর।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি:
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও পাওনাদারদের দাবি, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে দ্রুত অভিযোগগুলো যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাঁদের কষ্টার্জিত পাওনা টাকা ফিরে পাওয়ার পথ সুগম হয়।