নিজস্ব প্রতিবেদক:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল পাঠ নেওয়ার জায়গা নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা, জ্ঞান ও মূল্যবোধ অর্জনের ক্ষেত্র। ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চাকেন্দ্র হিসেবে মাদ্রাসার ক্ষেত্রেও এই প্রত্যাশা সমানভাবে প্রযোজ্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতনের নানা ঘটনায় সমাজ গভীরভাবে নাড়া খেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিরপরাধ শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ন্যায়বিচারের দাবিটি দ্বিমুখী—একদিকে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীকে সুরক্ষা ও প্রতিকার দিতে হবে, অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককেও ন্যায্য তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।
আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাবিধির বিষয়মাত্র নয়, এটি সরাসরি আইনের প্রশ্ন।
কোনো অভিযোগ উঠলে প্রথম ও প্রধান প্রশ্ন হওয়া উচিত—শিক্ষার্থী এখন নিরাপদ আছে কি না?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার বা জনরোষ কোনোভাবেই বিচারের বিকল্প হতে পারে না। একইভাবে প্রভাবশালী কারও মৌখিক অস্বীকৃতিও অভিযোগ খারিজের ভিত্তি হতে পারে না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কেবল কাগুজে নীতিমালা নয়, বরং কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
রাগের মাথায় শাস্তি দেওয়া, অপমান করা বা ভয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার সংস্কৃতি থেকে শিক্ষকদের বেরিয়ে আসতে হবে। শ্রেণিকক্ষ ও আবাসিক পরিবেশে শিশুদের আচরণ সামলানোর অহিংস পদ্ধতি বিষয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। এছাড়া কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সমন্বয়কারী সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া শিক্ষার্থী নির্যাতন প্রতিরোধে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ ও সুরক্ষা কমিটি গঠনের যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা মাঠে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
একটি সুস্থ শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক হবেন নিরাপত্তার সহায়ক, আর শিক্ষার্থী থাকবে সুরক্ষার অধিকারী। অপরাধ আড়াল না করা এবং নিরপরাধ শিক্ষককে অসম্মান না করার মাধ্যমেই কেবল মাদ্রাসার প্রকৃত মর্যাদা ও একটি নিরাপদ শিক্ষাব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।