প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
শফিকুল বারী সুনামগঞ্জ।
তীব্র জনবলসংকট ও অ্যাম্বুলেন্স বিকল থাকাসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হাসপাতালের নবাগত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ (সোহাগ) বৃহস্পতিবার(১৫অক্টোবর২০২৬) বেলা ১২ ঘটিকায় হাসপাতাল কনফারেন্স রুমে জেলা সদরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি হাসপাতাল পরিচালনায় গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় হাসপাতালের সার্বিক চিত্র, সেবার মান ও বিদ্যমান সংকটের চিত্র মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত তাসনিম।
প্রেজেন্টেশনে দেখা যায়, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রশাসনিক কাঠামোর চরম ঘাটতি রয়েছে। যেখানে অনুমোদিত ৪২১ জন জনবল থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫৫ জন। অর্থাৎ অর্ধেকের কাছাকাছি পদই ফাঁকা। এই বিপুল ঘাটতি নিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯০০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
বিদ্যমান চিকিৎসা সুবিধার হালহকিকত হচ্ছে,
চলতি সেবা,হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন, আইসিইউ (ICU) সেবা এবং প্যাথলজিক্যাল (রক্তসঞ্চালনসহ) সেবা বর্তমানে সচল রয়েছে।
অক্সিজেন ও ইসিজি,কেন্দ্রীয় পাইপলাইন অক্সিজেন ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনের জন্য ৮০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ৩০টি নেবুলাইজার ও ৫টি ইসিজি (ECG) মেশিন সচল রয়েছে।
ডায়ালিসিস ও অন্যান্য, মোট ৫টি ডায়ালিসিস মেশিনের মধ্যে ৩টি চালু রয়েছে এবং ২টি নষ্ট।
১০ শয্যার ডায়ালিসিস ইউনিটের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও যন্ত্রপাতির অভাবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবার কারণে দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় বর্তমানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সেবার মান উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়
তত্ত্বাবধায়ক ড. আলী আশরাফ সোহাগ জানান, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের সেবার পরিধি বাড়াতে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
১.ডায়ালিসিস ইউনিট সম্প্রসারণ,
ডায়ালিসিস সেবা ৫ শয্যা থেকে ১০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২.অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতাল চত্বরে একটি মাল্টিপারপাস ভবন,নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের জন্য, র্যাম্প সিঁড়ি,স্থাপনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং গণপূর্ত বিভাগকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
৩.বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরীক্ষা: প্যাথলজিক্যাল রক্ত পরীক্ষার পরিধি বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ERPP প্রজেক্টের মাধ্যমে IPC-এর আওতায় আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার বা, বর্জ্য প্ল্যান্ট, নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
৪.নিরাপত্তা জোরদার, হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক আলী আশরাফ সোহাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জেলা সদরের সংসদ সদস্যসহ জেলার অন্যান্য ৪ জন সংসদ সদস্য হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। তাঁদের সহযোগিতায় ইতিপূর্বে বেশ কিছু সংকটের সমাধান হয়েছে এবং বাকিগুলোও দ্রুত নিরসন হবে।
তবে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের একাংশের বিরুদ্ধে আসা অসহযোগিতা ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে হাসপাতালের প্রশাসনিক নজরদারি আরও কঠোর করার পরামর্শ দেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তার এবং প্রিন্ট ও জাতীয় মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দরা