ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন
ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভায় কর্মরত ৪০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে উৎসব ভাতা পেয়েছেন। প্রত্যেক কর্মীকে ৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তবে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত নারী কর্মীসহ অন্য কর্মীদের বেতন কাঠামোতে বৈষম্য রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ন্যায্য ও মানবিক বিবেচনায় পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন কর্মীরা।
পৌর সচিব সন্তোষ কুমার হাজরা উৎসব ভাতা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পৌরসভার মাস্টার রোলে নিয়োজিত ৪০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা করে শারদীয় দুর্গোৎসবের ভাতা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন পোশাক হিসেবে প্রত্যেককে একটি করে লুঙ্গি ও গেঞ্জি দেওয়া হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত নারী কর্মীরা মাসে জনপ্রতি সাড়ে ৪ হাজার টাকা পান। ড্রেন পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত কর্মীরা পান সাড়ে ৬ হাজার টাকা এবং পৌরসভার ময়লাবাহী গাড়ির সঙ্গে কাজ করা পাঁচজন কর্মী পান সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে।
কর্মীদের অভিযোগ, একই পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত থাকলেও কাজের ধরন অনুযায়ী পারিশ্রমিকে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে নারী পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা পুরুষ কর্মীদের মতোই দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলেও তাঁদের পারিশ্রমিক তুলনামূলকভাবে কম। ফলে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
কর্মীরা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে অল্প পারিশ্রমিক দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ উৎসব ভাতা পেলেও সেই টাকা দিয়ে দুর্গাপূদের কেনাকাটা, পরিবারের সদস্যদের নতুন পোশাক এবং অন্যান্য খরচ সামাল দেওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, শুধু উৎসব ভাতা নয়, নিয়মিত পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শপথ বৈরাগীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সবার সহযোগিতায় সম্ভাব্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
কর্মীদের প্রত্যাশা, পৌর কর্তৃপক্ষ তাঁদের বেতন বৈষম্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং কাজের ধরন ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেবে।