নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একপেশে, তোষামোদি এবং ‘জি-হুজুর’ নির্ভর সংসদীয় সংস্কৃতির প্রথা ভেঙে জাতীয় সংসদে নিরপেক্ষতার এক সাহসী ও যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে বিরল এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনা।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্বের মতো প্রভাবশালী মোহ ত্যাগ করে এই দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ব্যক্তিস্বার্থ বা দলের লেজুড়বৃত্তির চেয়ে সংসদীয় পবিত্রতা এবং সাংবিধানিক নিরপেক্ষতাই তাদের কাছে সবার আগে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে সরকারি দলের যেকোনো অনিয়ম বা ভুলত্রুটির ক্ষেত্রে যে নীরবতা বা পক্ষপাতমূলক আচরণ দেখা যেত, তা থেকে বেরিয়ে এসে লাইভ ক্যামেরার সামনে সরাসরি ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী মেরুদণ্ডের পরিচয় দিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট মহლის অভিমত, বিগত দিনে সংসদে একতরফা শোরগোল, চাটুকারিতা এবং ক্ষমতার অন্ধ তোষামোদ যেভাবে জেঁকে বসেছিল, তা অনেকটা ‘বেহায়া পুতুল নাচের’ শামিল ছিল। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বর্তমান কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের ফলে সেই সংস্কৃতির চিরতরে অবসান ঘটতে চলেছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রতি বিন্দুমাত্র আনুকূল্য না দেখিয়ে তারা এখন সংসদে বিরোধী দলের প্রতিটি যৌক্তিক মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা এবং না বলা কথাগুলো বুক ফুলিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য উন্মুক্ত সুযোগ ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতাসীনদের কোনো প্রকার খাতির না করে এই ধরনের নিরপেক্ষ অবস্থানকে ‘অমাবস্যার চাঁদের মতো বিরল’ বলে আখ্যায়িত করছেন প্রবীণ রাজনীতিক ও কলামিস্টরা। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে চামচামিমুক্ত এই দুই সূর্যসন্তান আজ প্রমাণ করেছেন যে, প্রকৃত নিরপেক্ষতা কোনো দুর্বলতা বা অসহায়ত্ব নয়, বরং এটিই একটি শক্তিশালী, গতিশীল এবং আদর্শ নেতৃত্বের আসল রূপ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ যদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে তা দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সাধারণ মানুষ এবং সচেতন মহলের প্রত্যাশা, এই ধরনের নিরপেক্ষ ও সাহসী নেতৃত্বই সংসদকে প্রকৃত অর্থে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবে।