নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
নামে-বেনামে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে কারাবন্দি রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবজাল হোসেন। তৃতীয় শ্রেণির সাধারণ একজন কর্মচারী হয়েও দুর্নীতির মাধ্যমে কীভাবে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এবং বর্তমানে কারাগার ও মামলার কী পরিস্থিতি—তা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ জুন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা দুটিতে ২৬৩ কোটি ও ২০ কোটিরও বেশি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর ২০২০ সালের আগস্টে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি না হওয়ায় আবজাল হোসেন কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বেশ আরাম-আয়েশেই দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কারাগারের একটি সূত্র জানায়, আবজালকে দেখতে কারাগারে তেমন কেউ না এলেও তিনি নিয়মিত মুঠোফোনে পরিবার ও আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন। সেলে বসে গল্পগুজব ও অন্য বন্দিদের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ-আলোচনায় তার সময় কাটে। অন্যদিকে, তার স্বজনরা নিয়মিত ক্যান্টিনের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেন তার পছন্দসই খাবারের জন্য। এদিকে মামলার প্রধান আসামি কারাগারে থাকলেও তার স্ত্রী রুবিনা খানম অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে গেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। সেখানেও তাদের বাড়ি রয়েছে।
ফরিদপুরের সাধারণ পরিবারের সন্তান আবজাল ১৯৯২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ১৯৯৫ সালে তৎকালীন মন্ত্রীর সুপারিশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পে অস্থায়ী পদে অফিস সহকারী হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০০০ সালে প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হলে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে এবং পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন শাখায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান। তার স্ত্রী রুবিনা খানমও একই অধিদপ্তরের সাবেক স্টেনোগ্রাফার। এই দম্পতি ‘রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে একচ্ছত্র ব্যবসা ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করতেন।
দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তাদের অবিশ্বাস্য সব সম্পদের তথ্য:
দুদকের উপপরিচালক মো. সাহিদুর রহমান জানান, আবজাল হোসেনের বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হলেও বাকি দুটি মামলার তদন্ত এখনো শেষ করতে পারেনি দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। তদন্ত শেষ না হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতের এই আলোচিত মাফিয়ার বিচারকাজও শুরু করা যাচ্ছে না।
এদিকে দুদকের এই দুই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। স্বাস্থ্য খাতের মতো একটি সংবেদনশীল সেক্টরে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের এমন সিন্ডিকেট এবং হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।