সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের কেজাউড়া এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও কেনাবেচার প্রতিবাদ করায় সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. হাবিবুল বাশার বশিরকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু মারধরই নয়, ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতে হামলা ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাবিবুল বাশার বশির বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সেবীরা বশিরের বাসার সামনে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবন করে আসছিল। আবাসিক এলাকায় এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় মাদক চক্রটি তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত সোমবার (৬ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮:৩০ ঘটিকায় পশ্চিম সুলতানপুরের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে ও যুবলীগ নেতা নূর হাসান (৩২) এবং আঞ্জব আলীর ছেলে আমিনুর (৩৫) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জন সহযোগী কেজাউড়া এলাকায় বশিরের বাসার সামনে মাদক সেবন ও কেনাবেচা করতে আসে। বশির তাদের সরে যেতে বললে মাদক চক্রটি লাঠিসোঁটা ও ছুরি নিয়ে তার ওপর চড়াও হয়।
হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট ও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় বশিরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং সাক্ষী কুতুব উদ্দিন ও তৌহিদুল ইসলাম নিমেস এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা বশিরের বাড়িতে হামলা চালানো ও তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. হাবিবুল বাশার বশির বলেন, "এলাকার পরিবেশ রক্ষা করতে গিয়ে আমি আজ নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি। মাদক কারবারিরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাই।"
আবাসিক এলাকায় এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।