এস এম জামাল | ঢাকা
বর্তমান সময়ে ই-কমার্স ও অনলাইন কেনাকাটার প্রসারে দেশজুড়ে কুরিয়ার সার্ভিসের গুরুত্ব বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে পুঁজি করে বাজারে এখন নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘সহজ শর্তে কুরিয়ার সার্ভিস ফ্র্যাঞ্চাইজি’ বা দ্রুত সেটআপ দেওয়ার প্রলোভন। অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্যাকেজ এবং দ্রুত ব্যবসার স্বপ্ন দেখিয়ে এক শ্রেণির অসাধু চক্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পকেট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আসলে কি এটি ব্যবসা উন্নয়নের সুযোগ, নাকি সুপরিকল্পিত কোনো ফাঁদ—তা নিয়ে এখন বিনিয়োগকারীদের মাঝে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে এই চক্রটি দাবি করছে, খুব কম সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কুরিয়ার সার্ভিসের সেটআপ তারা সম্পন্ন করে দেবে। চটকদার বিজ্ঞাপনে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য মূলত নিচের বিষয়গুলোকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে:
সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুরিয়ার ব্যবসা একটি জটিল লজিস্টিকস ভিত্তিক কর্মযজ্ঞ। এখানে গ্রাহকের আস্থা অর্জনই মূল চ্যালেঞ্জ। অথচ এই চক্রগুলো এমনভাবে উপস্থাপনা করে যেন কুরিয়ার সার্ভিস চালানো কেবল একটি সফটওয়্যার বা লোগো বানানোর মতোই সহজ কাজ।
প্রতারণার কৌশলগুলো হলো:
১. অগ্রিম অর্থ হাতিয়ে নেওয়া: কাজের শুরুতে 'সেটআপ ফি' বা 'প্রজেক্ট কস্ট' হিসেবে একটি বড় অংকের টাকা অগ্রিম নেওয়া।
২. অকেজো প্রযুক্তিনির্ভরতা: চড়া মূল্যে যে সফটওয়্যার বা অ্যাপ দেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো কার্যকর ট্র্যাকিং ক্ষমতা বা সার্ভার সাপোর্ট নেই, যা প্রথম মাসেই অচল হয়ে পড়ে।
৩. দায়সারা ব্র্যান্ডিং: নামসর্বস্ব কিছু ব্যানার বা লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে বিনিয়োগকারীকে শান্ত রাখা হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই চক্রটি তাদের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে উধাও হয়ে যায়।
৪. ফলাফলহীন বিনিয়োগ: বিনিয়োগকারী যখন দেখেন তার ব্যবসা কোনোভাবেই গতি পাচ্ছে না, তখন দায়ভার এড়িয়ে চক্রটি নতুন কোনো শিকার খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
কুরিয়ার ব্যবসার সাথে জড়িত অভিজ্ঞরা বলছেন, এই সেক্টরে রাতারাতি সাফল্য পাওয়া অসম্ভব। কেউ যদি অস্বাভাবিক দ্রুত সময়ের মধ্যে সবকিছু 'রেডি' করে দেওয়ার গ্যারান্টি দেয়, তবে সেটি সন্দেহজনক।
বিনিয়োগকারীদের করণীয়:
এ ধরনের চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেকেই মূলধন হারিয়ে পথে বসেছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য বা প্রমাণ থাকে না, কারণ প্রতারকরা চুক্তিপত্রে এমন সব ধারা যোগ করে যা পরে আর কোনো কাজে আসে না। তাই কোনো বিনিয়োগ করার আগে নিজের যাচাই-বাছাইয়ের ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বার্থে দৈনিক প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর