1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ২৯ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ইং
সুনামগঞ্জে ৩ হত্যা মামলার আসামি ইয়াবা ডিলার ওমর আলী
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
নিজস্ব প্রতিবেদক।
ব্যাংক লেনদেন এড়িয়ে কোটি টাকার ট্যাক্স ফাঁকি, নজরদারি এড়াতে অভিনব কৌশলে ওমর।
সুনামগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান চললেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে জেলার অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি ওমর আলী (৩২) সে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আমিরপুর গ্রামের দিনমজুর নজরুল ইসলাম(৬০) ওরফে(নইদার) ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, একসময়ের নুন আনতে পান্তা ফুরানো পরিবারের এই সন্তান রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে।
কোনো দৃশ্যমান বৈধ ব্যবসা বা আয়ের উৎস না থাকলেও বর্তমানে সে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। আর এই বিপুল অর্থবিত্তের পেছনে রয়েছে সীমান্ত অঞ্চল থেকে নিয়ে আসা সর্বনাশা ইয়াবার পাইকারি ও খুচরা কারবার। অনুসন্ধানে ওমর আলীর সম্পদ অর্জনের এক অভিনব ও চতুর কৌশলের কথা জানা গেছে। কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও রাষ্ট্র বা সরকার তার কাছ থেকে কোনো আয়কর (ইনকাম ট্যাক্স) বা ভ্যাট পাচ্ছে না। অত্যন্ত চতুরতার সাথে সে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে। তার মাথায় এই বুদ্ধি কাজ করে যে—যেহেতু তার কোনো দৃশ্যমান ও বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য নেই, তাই ব্যাংকিং চ্যানেলে বিপুল অঙ্কের লেনদেন করলে এত টাকা কোথা থেকে এলো এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা ও আয়কর বিভাগ সহজেই তাকে ধরে ফেলবে। এই আইনি জটিলতা ও নজরদারি এড়াতে ওমর আলী তার মাদক ব্যবসার কোটি কোটি টাকার লেনদেন সম্পূর্ণ নগদ (ক্যাশ) টাকায় করে থাকে। ব্যাংকে বড় কোনো লেনদেন না রেখে এবং কালোটাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রেখে সে একদিকে যেমন নিজের অপরাধের উৎস গোপন রাখছে, অন্যদিকে সরকারের লাখ লাখ টাকার ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে রাষ্ট্রকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওমর আলীর পরিবার একসময় চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করত। তার বাবা দিনমজুরের কাজ করতেন এবং ওমর আলী নিজেও একসময় দিনমজুর হিসেবেই জীবিকা নির্বাহ করত। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন যুব সংহতি’র রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই তার ভাগ্যবদল শুরু হয়। এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সে পুরোদস্তুর ইয়াবা ডিলারে পরিণত হয়। বর্তমানে নিজের মাদক সিন্ডিকেট চালাতে দৈনিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা মজুরিতে কামলা বেতনভুক্ত কর্মী নিয়োগ করেছে ওমর আলী, যারা বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে।
ওমর আলী এলাকায় এতটা বেপরোয়া যে তার বিরুদ্ধে একাধিক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বহুল আলোচিত।
ইব্রাহিমপুরের মিজান হত্যাকাণ্ড
খুরুতলার ইখলাস হত্যাকাণ্ড খাইয়ারগাঁওয়ের বিল্লাল হত্যাকাণ্ড
এই ৩টি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে ৮ থেকে ১০টি মাদক চোরাচালানের মামলা রয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত খুঁটির জোরে সে এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সরেজমিনে আমিরপুর গ্রামে গিয়ে তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, ওমর আলীর ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা তটস্থ। ক্যামেরার সামনে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা গোপন ক্যামেরায় জানান ওমর আলীর এই অবিশ্বাস্য উত্থানের গল্প। স্থানীয়রা জানান, যে পরিবারের তিন বেলা ঠিকমতো ভাত জুটত না, সেই ওমর আলী এখন গ্রামে দুটি আলিশান বাড়ির মালিক। এর মধ্যে একটি দৃষ্টিনন্দন দুতলা ভবন এবং পাশেই নির্মাণাধীন রয়েছে আরেকটি আধুনিক চারতলা ফাউন্ডেশনের ভবন। এ ছাড়াও নামে-বেনামে প্রচুর জমি ও সম্পত্তির মালিক বনে গেছে এই মাদক কারবারি।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের দাবি, অবিলম্বে এই চিহ্নিত মাদক সম্রাট, খুনের আসামি ও ট্যাক্স ফাঁকিবাজকে গ্রেপ্তার করে সুরমা ইউনিয়নসহ গোটা সুনামগঞ্জ সদরকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস এম জামান
প্রধান সম্পাদক
যোগাযোগ: Head Office:
86/ purana palton,Dhaka 1000
মোবাইল: 01906337172
ইমেইল: pratidinerkonthosor@gmail.com
©দৈনিক প্রতিদিনের কন্ঠস্বর