1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ২২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ইং
পিলখানা ট্র্যাজেডি ও পরবর্তী গুম-খুন: নেপথ্যে 'অপারেশন রেবেল হান্ট' ও জিয়াউল আহসান
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
নিজস্ব প্রতিবেদক
এসএম জামাল, সম্পাদক ও প্রকাশক:
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত হয় ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ওই ঘটনায় মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। সাম্প্রতিক সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ, রাজনৈতিক মদদ এবং পরবর্তী সময়ে সাক্ষী ও জীবিত অফিসারদের নিখোঁজ করার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য প্রকাশ্যে আসছে।
১. পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রাজনৈতিক কূটকৌশল
তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে অভিযোগ রয়েছে যে, ক্ষমতার ভিত শক্ত করতে এবং দেশপ্রেমিক সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই এই পরিকল্পিত গোলযোগ তৈরি করা হয়েছিল। ঘটনার সময় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি সহায়তার জন্য তৎকালীন সরকার প্রধানের কাছে পুলিশ বা র্যাবের স্কোয়াড পাঠানোর অনুরোধ করলেও, রহস্যজনক কারণে তা যথাসময়ে পাঠানো হয়নি। উপরন্তু, হত্যাকাণ্ড চলাকালীন কতিপয় রাজনৈতিক নেতার বিতর্কিত তৎপরতা ও বিদ্রোহীদের উসকে দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শীদের নজরে আসে।
২. 'অপারেশন রেবেল হান্ট' এবং জীবিত সাক্ষীদের নির্মূল
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক চাপ ও গণমাধ্যমের কারণে প্রকৃত সত্য ধামাচাপা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়লে, প্রত্যক্ষদর্শী বিডিআর সদস্যদের নীরব করার নতুন পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই মিশন সফল করতে তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং শুরু হয় 'অপারেশন রেবেল হান্ট'।
- টার্গেট কিলিং: যেসব বিডিআর সদস্য বা কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছিলেন, তাদের একটি তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে অপহরণ করা হয়।
- নৃশংসতার ধরণ: অপহৃতদের প্রথমে ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে মাঝনদীতে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হতো। লাশ দ্রুত ডুবিয়ে দিতে এবং প্রমাণ নষ্ট করতে পেটে আঘাত করে সিমেন্টের বস্তা বা ইট বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো।
৩. আয়নাঘর, রাজনৈতিক গুম ও ভারতীয় সংযোগ
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শুধু বিডিআর সদস্যই নয়, বরং বিরোধী দলীয় নেতা (যেমন ইলিয়াস আলী) এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষকে গুম ও খুনের অভিযোগ রয়েছে।
- কিলিং জোন ও ছদ্মবেশ: ভুক্তভোগীদের প্রথমে 'আয়নাঘর' বা গোপন নির্যাতন সেলে নিয়ে টর্চার করা হতো। পরবর্তীতে লাশ রেললাইনে ফেলে দিয়ে সেটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হতো।
- পরিসংখ্যান ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা: ধারণা করা হয়, তাঁর আমলে সহস্রাধিক মানুষকে গুলি করে হত্যা এবং দুই শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী নাগরিককে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
৪. অবৈধ সম্পদের পাহাড় ও অর্থ পাচার
ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়াউল আহসান বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে বিভিন্ন তদন্তে উঠে আসছে। আনুমানিক ৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি অর্জন এবং বিদেশে প্রায় ৩৪২ কোটি টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।
বর্তমান আদালতের চিত্র ও প্রাসঙ্গিক বিতর্ক
বর্তমানে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আদালতে সাক্ষী হিসেবে ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের বক্তব্য থেকে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ মহলের সাথে জিয়াউলের কথোপকথনের সূত্রটি নিশ্চিত হওয়া যায়।
তবে বর্তমান বিচার প্রক্রিয়ার কিছু চিত্র নিয়ে জনমনে গভীর ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে:
- ভিআইপি সুবিধা ও অনুশোচনাহীনতা: এত বড় অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আদালতে আসামির মুখে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি। উল্টো হ্যান্ডকাফ ছাড়া, পুলিশের সাথে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কথা বলতে বলতে আদালত ত্যাগ করতে দেখা গেছে তাকে।
- কারাগারে আতিথেয়তা: অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ বন্দি বা আলেম-ওলামাদের ক্ষেত্রে যেখানে সামান্য অভিযোগে কঠোর আইনি কঠোরতা (শিকল বা হ্যান্ডকাফ) দেখানো হয়, সেখানে জিয়াউল আহসানের জন্য প্রিজন ভ্যানের বদলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) গাড়ি এবং কারাগারে উন্নত খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
- নেপথ্যের 'রাঘব বোয়াল': সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জিয়াউল আহসান মুখ খুললে তৎকালীন অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ফেঁসে যাবেন। তাই তাকে আড়াল করতে বা বাঁচাতে পর্দার আড়াল থেকে এখনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৎপর রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস এম জামান
প্রধান সম্পাদক
যোগাযোগ: Head Office:
86/ purana palton,Dhaka 1000
মোবাইল: 01906337172
ইমেইল: pratidinerkonthosor@gmail.com
©দৈনিক প্রতিদিনের কন্ঠস্বর