1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ১০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ইং
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় মাদক আন্দোলনের জেরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি।
স্থানীয় একটি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে। গত রবিবার (০৭ মে) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল হাফিজ (৬২) বাদী হয়ে স্থানীয় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮/১০ জনকে আসামী করে দিরাই থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জারুলিয়া গ্রামের মৃত জনিক উল্লার ছেলে আবুল কালাম (৪৫) ও আব্দুল করিম (৩৫) দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মারাত্মক মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এতে এলাকার তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হলে, গত এক বছর আগে গ্রামের মুরুব্বি ও প্রায় দুই শতাধিক সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে একটি 'মাদক প্রতিরোধ কমিটি' গঠন করা হয়। উক্ত কমিটিতে অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান মোঃ আব্দুল হাফিজ। মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় তখন থেকেই মাদক চক্রটি বাদীর ওপর চরম ক্ষিপ্ত ছিল।
সম্প্রতি আসামী আব্দুল করিমের একটি নৌকা চুরি হয়, যা পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর থানা পুলিশ উদ্ধার করে। কিন্তু মাদক চক্রটি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদীর ছেলে তামিম মিয়া এবং গ্রামের অপর এক যুবকের ওপর এই চুরির মিথ্যা অপবাদ দেয়। এই চুরির ঘটনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা এলাকায় একটি বড় ধরনের দাঙ্গা সৃষ্টির নীল নকশা তৈরি করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত রবিবার সকালে তারা দেশীয় অস্ত্র সহ সজ্জিত হয়ে বেআইনি জনতাবদ্ধে আব্দুল হাফিজের বসত বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করলে তিনি প্রাণভয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে দরজা বন্ধ করে আত্মরক্ষা করেন। পরে আব্দুুল হাফিজ কে না পেয়ে তার ঘরের দরজা, দক্ষিণের বেড়া কুপিয়ে ও ভেঙে তছনছ করে। একই সাথে তারা ইট-পাটকেল ছুঁড়ে টিনের চাল ফুটো করে দেয় এবং ঘরের বারান্দার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। শুধু তাই নয়, বাড়ির আঙিনায় থাকা একটি কাঁঠাল গাছের কাঁঠাল কেটে নষ্ট করে।আরও অভিযোগ রয়েছে হামলকারীরা বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান সম্পদসহ প্রায় ৩ লক্ষ ২১ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাট চালিয়েছে।
হামলার সময় চিৎকার ও হামলাকারীদের তাণ্ডব দেখে এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী ছুটে এসে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করেন এবং হাফিজ সহ তার পরিবার কে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার বেউতা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিরাপদ হেফাজতে সরিয়ে নেন।
বর্তমানে এই ঘটনার পর থেকে আব্দুল হাফিজ তার স্ত্রী ও সন্তানরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার পর আব্দুল হাফিজ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "মাদক সংক্রান্ত বিরোধ ও হামলার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ বা এজাহার আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক, তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস এম জামান
প্রধান সম্পাদক
যোগাযোগ: Head Office:
86/ purana palton,Dhaka 1000
মোবাইল: 01906337172
ইমেইল: pratidinerkonthosor@gmail.com
©দৈনিক প্রতিদিনের কন্ঠস্বর