1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ০৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ইং
ব্যবসায়ী সোহাগকে সপরিবারে হত্যাচেষ্টার দাবি, থানায় মামলা যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন,যশোর ঝিকরগাছা'
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানাধীন বড়আঁচড়া এলাকায় ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেনকে (আলী) সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়িক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২/১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন। তিনি বেনাপোল পৌর এলাকার বড়আঁচড়া গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি মশিয়ার রহমানের তিনতলা ভবনের নিচতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে সপরিবারে বসবাস করছেন। সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ হোসেন অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তার বাসার সামনে এসে অবস্থান নেয়।
এ সময় হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা তার বাসা লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তিনি বলেন, হামলাকারীদের ছোড়া একটি গুলি জানালার কাচ ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে দেয়ালে আঘাত হানে। আরও কয়েকটি গুলি ঘরের বিভিন্ন অংশ ও প্রধান দরজায় লাগে। ঘটনার সময় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। অল্পের জন্য কেউ হতাহত না হলেও পুরো পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছে। সোহাগ হোসেন দাবি করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়;ল, বরং তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। তিনি বলেন, আমি বা আমার পরিবারের কেউ যদি ওই সময় জানালার পাশে কিংবা দরজার সামনে থাকতাম, তাহলে হয়তো আজ বেঁচে থাকতাম না। আল্লাহর রহমতে আমরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী সোহাগ হোসেনের সঙ্গে ১ নম্বর আসামি মো. কুতুব উদ্দিন আশার প্রায় ৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস-বৈঠক হলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি। উল্টো কুতুব উদ্দিন ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৪ জুন বিকেলে বড়আঁচড়ার শেখ মার্কেটে অবস্থিত সোহাগ হোসেনের ‘রেন্ট এ কার’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে গিয়ে আসামিরা তাঁকে হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরদিন রাতে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা হামলা চালায়। মামলার নামীয় আসামিরা হলেন, ছোটআঁচড়া গ্রামের মো. ইসমাইলের ছেলে মো. কুতুব উদ্দিন আশা (৩০), একই গ্রামের ইসরাফিলের ছেলে নয়ন (৩০) ও চয়ন (২৭), জামু সরদারের ছেলে বাবু (৪০), বড়আঁচড়া গ্রামের মোতাহার মিস্ত্রীর ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (২৮), গাতিপাড়া গ্রামের ছবির ছেলে বনি (২৮), নামা শ্যামলাগাছি গ্রামের রাজু (৩৪) এবং ছোটআঁচড়া গ্রামের মো. ইসরাফিল ওরফে ফিল (৫৪)।
এছাড়া আরও ১২/১৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। বেনাপোল পোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রনেন কুমার আচার্য্যের প্রস্তুতকৃত জব্দ তালিকা অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে দুটি ব্যবহৃত গুলির পেছনের অংশ, দুটি গুলির অগ্রভাগ এবং একটি সিসার খণ্ড উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গুলির খোসায় ‘KF 7.65’ লেখা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আলামত জব্দের সময় স্থানীয় সাক্ষী রমজান আলী, আইয়ুব হোসেন এবং পুলিশ সদস্য জাহিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরশাফ আলী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গুলির খোসা ও সিসার অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে।
এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস এম জামান
প্রধান সম্পাদক
যোগাযোগ: Head Office:
86/ purana palton,Dhaka 1000
মোবাইল: 01906337172
ইমেইল: pratidinerkonthosor@gmail.com
©দৈনিক প্রতিদিনের কন্ঠস্বর