যশোরের ঝিকরগাছায় প্রতারক আদম বেপারীর খপ্পরে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ ৫টি পরিবারের পক্ষে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত খন্দকার আনিছুর রহমান।
একসময় ঝিকরগাছা পারবাজার এলাকায় ভাড়াটিয়া কাপড়ের ব্যবসা ও বিদেশে পাঠানোর নামে ৫ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতারক খন্দকার হামিদূর রশিদ সোহেল-সেতু দম্পতির বিরুদ্ধে। মোটা অংকের অর্থ প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো বর্তমানে পথে বসার উপক্রম মর্মে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (০৬জুন) বিকালে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে প্রতিকার দাবি করে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়,যশোর উপশহরের বাসা নং-১৬৮, বি ব্লক, (বর্তমান ঠিকানা নড়াইল জেলার উড়ানী মধ্যপল্লীর) বাসিন্দা
খন্দকার শরিফুল ইসলামের ছেলে খন্দকার হামিদুর রশিদ সোহেল ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সেতু উভয় ধূর্ত প্রতারক ও অর্থ আত্মসাতকারী।
উল্লেখিত ব্যক্তি ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সেতু বিভিন্ন সময়ে ও তারিখে এসব পরিবারের নিকট থেকে স্বশরীরে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ পূর্বক বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নানাভাবে প্রলুদ্ধ করতে থাকেন। কানাডায় তার মা'সহ নিকট আত্মীয়-স্বজন দীর্ঘদিন আছেন এবং তারা সে দেশের স্থায়ী নাগরিক। এ কারণে কানাডায় লোক পাঠানো তাদের জন্য কোন ব্যাপার না। এমন প্রস্তাবে রাজি হয়ে।
কাপড় ব্যবসায়ী খন্দকার আনিছুর রহমানের নিকট থেকে ১৬লাখ টাকা, কানাডায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সুমন হোসেনের নিকট থেকে ১৪লাখ ২৫ হাজার, সাগর হোসেন ১৪লাখ ৮০ হাজার, রফিকুল ইসলামের নিকট থেকে নগদ ১২ লাখ ৪৫ হাজার ও চেকের মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকা এবং আরমান হোসেনের নিকট থেকে নগদ ১৬ লাখ টাকা।
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থর কানাডা যাওয়ার প্রত্যাশায় তার চটকদার কথার প্রতি সরল বিশ্বাসে নগদ ও তার ব্যাংক হিসাব (নং ১৬৩১০১০০৭৮৫৭৬)ডাচ বাংলা ব্যাংক যশোর ও ঝিকরগাছা শাখার হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা দেই। শুধু তাই নয়, ঢাকাস্থ কানাডিয়ান দূতাবাসে ব্যাংক সলভেন্সি দেখাতে প্রত্যেককে তিনটি করে নিজ একাউন্টের ব্ল্যাংক চেক জমা দিতে হবে বলে সাদা চেকের স্বাক্ষরিত পাতা হাতিয়ে নেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, প্রতারক ও তার স্ত্রী কানাডার যে ভিসার কাগজপত্র তাদের দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও জালজালিয়াতিমূলক। শুধু তাই নয়, তৈরিকৃত (রেডিমেড) বস্ত্র ব্যবসার নামে মোটা অংকের লাভের প্রলোভন দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের কোটি টাকার ভুয়া ব্যাংক চালানোর মাধ্যমে প্রতারণামূলক ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছে।
প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতারকদ্বয় প্রথমে গাঢাকা দেন। পরে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলো তার প্রকৃত ঠিকানায় গিয়ে তার নিকট আমাদের প্রদত্ত টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা অজুহাত,টালবাহানা ও ছলচাতুরির আশ্রয় নেন। এমতাবস্থায় আমরা তাকে দেওয়া আমাদের পাওনা টাকা ফেরত পেতে স্বশরীরে ও তার আত্মীয়-স্বজনকে বহুবার অবহিতপূর্বক অনুনয়,বিনয়,আবেদন নিবেদন করি। কিন্তু তার মন গলেনি। আমাদের টাকা ফেরত দিতে সে কেবল অস্বীকারই করিনি উল্টো ব্যবসার নামে আগাম নেয়া কয়েকটি চেক ডিজনার দেখিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। তার এসব অভিনব প্রতারণায় আমরা হয়রানি,দিশেহারা ও অনন্যোপায় হয়ে পড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতারিতদের মধ্যে উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে মোঃ সুমন হোসেন ১৪লাখ ২৫হাজার টাকা, মল্লিকপুর গ্রামে আব্দুল আজিজের ছেলে মোঃ সাগর হোসেনের কাছ থেকে ১৪লাখ ৮০হাজার টাকা, হাজের আলী গ্রামের মোহাম্মদ আকবর আলী সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে নগদ ১২লাখ ৪৫হাজার টাকাসহ একটি চেকের মাধ্যমে ১৩ লাখ, আবুবক্কার গাজীর ছেলে মোঃ আরমান হোসেন এর কাছ থেকে ১৬লাখ ও পুরন্দরপুর পারবাজার এলাকার মৃত খন্দকার হাফিজুর রহমানের ছেলে আনিসুর রহমানের কাছ থেকে কাপড়ের ব্যবসার নামে ১৬লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
এদের মধ্যে সাগর, সুমন ও রফিকুলের কাছ থেকে পৃথক তিনটি করে স্বাক্ষরিত সাদা ব্ল্যাংঙ্ক চেক নেয়া হয়। এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যার নং ৪৪৬তাং ১১/০৫/২৬ ইং।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দাবি করা হয়, অনেকেই বিদেশ যাওয়া সংক্রান্তে উভয় পক্ষের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে চুক্তিনামা যা নোটারি পাবলিক (যশোর) কার্যালয়ের মাধ্যমে এফিডেভিট করা আছে। তাছাড়া ডাচ বাংলা ব্যাংকে তার দেয়া সঞ্চয়ী হিসাব নাম্বারে টাকা জমা প্রদানের মানি রিসিটসহ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণাদি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হামিদুর রশিদের সাথে তার মুঠোফোনে ০১৭১২-৮৪৭৪৪৫, ০১৮৩৭৪৬৮৩১৪ যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগ পাওয়া যায়নি।