মোঃ ফখরুল ইসলাম,শাল্লা (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষি কার্ড’ ও বিশেষ সহায়তার অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কনফারেন্স রুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে এই সহায়তা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শাল্লা উপজেলায় চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃত মোট ১০ হাজার ১ শত ২৫ জন কৃষকের মাঝে পর্যায়ক্রমে এই মানবিক সহায়তা প্রদান করা হবে। উপজেলার বাকি ৪টি ইউনিয়ন (১নং আটগাঁও, ২নং হবিবপুর, ৩নং বাহাড়া ও ৪নং শাল্লা) পরিষদের তালিকাভুক্ত কৃষকদের মাঝে আসন্ন ঈদুল আজহার পর এই সহায়তা বিতরণ করা হবে। পুনর্বাসন সহায়তার অংশ হিসেবে এদিন তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের হাতে নগদ ৩ হাজার টাকা এবং ১৫ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা গনেন্দ্র চন্দ্র সরকার, ৩নং বাহাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু, বিএনপি নেতা নিতাই দাস এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ব্রজেশ চৌধুরী। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং ইকরামুল হোসেন ও রাহুল সরকারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি এই জরুরি সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকার প্রান্তিক কৃষকেরা। উপকারভোগী কয়েকজন কৃষক জানান, এই সংকটকালীন সময়ে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা তাদের অনেক উপকারে আসবে। সময়োচিত এই উদ্যোগের জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, হাওরাঞ্চল বেষ্টিত এই উপজেলায় সাম্প্রতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি, কিন্তু সেই তুলনায় বরাদ্দকৃত ‘কৃষি কার্ড’-এর সংখ্যা বেশ কম। ক্ষতিগ্রস্ত সব কৃষককে সহায়তার আওতায় আনতে কৃষি কার্ডের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার জন্য বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকেরা।