দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের সবথেকে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়ে কোনো প্রকার সরকারি প্রজ্ঞাপন বা আইনি বৈধতা ছাড়াই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিটি। আজ সকালে বিসিবি কার্যালয়ে এক আকস্মিক উপস্থিতির মাধ্যমে তারা দায়িত্ব গ্রহণের দাবি করেন। বিসিবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ‘জবরদখল’ এবং নজিরবিহীন দলীয়করণের ঘটনায় স্তম্ভিত দেশের ক্রীড়ামহল।
সাধারণত বিসিবি’র পরিচালনা পর্ষদ গঠন বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এবং সরকারি সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ কোনো প্রকার দাপ্তরিক চিঠিপত্র ছাড়াই তামিম ইকবালের নেতৃত্বে একদল লোক শেরে বাংলা স্টেডিয়ামস্থ বিসিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং বর্তমান কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেন।
সাবেক বোর্ড পরিচালক ও ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসিসি (ICC) কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা অনিয়মতান্ত্রিক বোর্ড গঠন সমর্থন করে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক ক্রিকেটার বলেন:
"বিসিবি কোনো ক্লাবের সাধারণ কমিটি নয় যে কেউ এসে চেয়ারে বসে পড়বে। এটি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। নিয়ম বহির্ভূত এই দখলদারি বাংলাদেশকে বিশ্ব ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করার পথে ঠেলে দিতে পারে।"
বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গুঞ্জন রয়েছে, এই নজিরবিহীন ঘটনার পর উচ্চ আদালত এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নীতিনির্ধারকদের হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
তামিম ইকবালের মতো একজন জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারের নেতৃত্বে এমন "অগণতান্ত্রিক" এবং "বেআইনি" ক্ষমতা গ্রহণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ ক্রিকেট সমর্থকদের দাবি, ক্রিকেটকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে অবিলম্বে স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়ায় বিসিবি পরিচালনা করা হোক।