1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ২৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ইং
মাই সাহেবা জামে মসজিদ: ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অনন্য নিদর্শন
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
মাই সাহেবা জামে মসজিদ: ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অনন্য নিদর্শন
___________________________________
মাই সাহেবা জামে মসজিদ শেরপুর জেলায় প্রবেশের পর চোখে পড়া অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। শহরের প্রাণকেন্দ্রে, শেরপুর সরকারি কলেজের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এই মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয়ই নয়, বরং জেলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রায় ২৫০ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদটি সময়ের সাথে একাধিকবার সংস্কার করা হলেও এর প্রাচীন ঐতিহ্যের ছাপ এখনও স্পষ্টভাবে টিকে আছে। মসজিদের দুইটি সুউচ্চ মিনার দূর থেকে দৃশ্যমান, যা শেরপুর শহরের পরিচিত একটি ল্যান্ডমার্ক হিসেবে বিবেচিত।
মসজিদটির নামকরণ ঘিরে রয়েছে একটি প্রচলিত কাহিনি। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে শেরপুরের জমিদার মুক্তাগাছার জমিদারকে এই স্থানটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং একটি পুরনো ঘর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, হাতি দিয়ে বারবার চেষ্টা করেও ঘরটি ভাঙা সম্ভব হয়নি। প্রতিবারই হাতিটি ঘরের সামনে গিয়ে যেন শ্রদ্ধায় বসে পড়ত। পরে দেখা যায়, ওই ঘরের ভেতরে একজন নারী গভীর ইবাদতে নিমগ্ন ছিলেন। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে জমিদার নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ওই নারীর নাম ছিল ‘মাই সাহেবা’। তার মৃত্যুর পর সম্মানার্থে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং তার নামেই মসজিদটির নামকরণ করা হয়।
বর্তমানে তিনতলা বিশিষ্ট এই মসজিদটি আধুনিক সুবিধা সম্বলিত, সম্পূর্ণ শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত। একসঙ্গে প্রায় ৯০০ মুসল্লী এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। বিশেষ করে জুমার দিনে শেরপুর শহর ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মুসল্লী এখানে সমবেত হন।
দান সংগ্রহের দিক থেকেও এই মসজিদটি ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
ঐতিহ্য, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং লোককথার সমন্বয়ে মাই সাহেবা জামে মসজিদ আজ শেরপুরের এক অনন্য পরিচয় বহন
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস এম জামান
প্রধান সম্পাদক
যোগাযোগ: Head Office:
86/ purana palton,Dhaka 1000
মোবাইল: 01906337172
ইমেইল: pratidinerkonthosor@gmail.com
©দৈনিক প্রতিদিনের কন্ঠস্বর