1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ১৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ইং
সুনামগঞ্জে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইকের রাজত্ব: টিআই-এর চ্যালেঞ্জ বনাম বাস্তব চিত্র
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
সুনামগঞ্জে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইকের রাজত্ব: টিআই-এর চ্যালেঞ্জ বনাম বাস্তব চিত্র
_________________________________
সুনামগঞ্জ পৌর শহরে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক ও অটো রিক্সার দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। যত্রতত্র পার্কিং আর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে শহর এখন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন রাস্তায় চলাচল করলেও ট্রাফিক বিভাগ বলছে ভিন্ন কথা। এমনকি লাইসেন্সবিহীন গাড়ির অস্তিত্ব নিয়ে খোদ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) গণমাধ্যমকর্মীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এখন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
কাগজে কলমে শ’য়ে, রাস্তায় হাজারে
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ শহরে চলাচলের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ মোট ১২০০টি ইজিবাইক এবং ১হাজার অটো রিক্সাকে নম্বর প্লেট বা লাইসেন্স প্রদান করেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরে বর্তমানে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ হাজার ইজিবাইক ও অটো রিক্সা অবাধে চলাচল করছে। এই বিপুল সংখ্যক অবৈধ যানের কারণে শহরের আলফাত স্কয়ার, ট্রাফিক পয়েন্ট ও ডিএস রোডসহ প্রধান সড়কগুলোতে সারাদিনই স্থবিরতা বিরাজ করে।
টিআই-এর চ্যালেঞ্জ ও সাংবাদিকের 'পুরস্কার' সম্প্রতি শহরের এই যানজট পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবু হানিফের কাছে জানতে চান স্থানীয় পত্রিকা ‘সুনামগঞ্জের খবর’ ও ‘যমুনা টেলিভিশন’-এর সাংবাদিকরা।
লাইসেন্সবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান না থাকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে টিআই আবু হানিফ তা অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দাবি করেন— “এই শহরে একটিও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চলে না।” তিনি আরও বলেন, যদি কেউ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি দেখাতে পারে, তবে তাকে তিনি পুরস্কৃত করবেন।
ক্যামেরায় ধরা পড়লো থলের বিড়াল
টিআই-এর এমন আত্মবিশ্বাসী চ্যালেঞ্জের পর অনুসন্ধানে নামেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা। ক্যামেরা নিয়ে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করে দেখা যায়, শত শত ইজিবাইক ও অটো রিক্সার কোনো বৈধ কাগজপত্র বা নম্বর প্লেট নেই। অনেক গাড়িতে ভুয়া নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার অনেকগুলোতে কোনো নম্বরই নেই। সাংবাদিকদের ক্যামেরায় যখন একের পর এক লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ধরা পড়ছিল, তখন টিআই-এর সেই ‘পুরস্কার’ দেওয়ার দাবিটি শহরজুড়ে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।
জনমনে প্রশ্ন: নেপথ্যে কি অন্য কিছু?
প্রকাশ্য দিবালোকে হাজার হাজার অবৈধ গাড়ি ট্রাফিক পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে চলাচল করলেও টিআই কেন তা অস্বীকার করলেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহলের দাবি, এই বিপুল সংখ্যক অবৈধ যান চলাচলের পেছনে ট্রাফিক বিভাগের কোনো 'যোগসাজশ' বা মাসোহারা আদায়ের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শহরবাসী এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন, সত্য সামনে আসার পর ট্রাফিক বিভাগ কি তাদের ভুল স্বীকার করে অবৈধ যানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, নাকি ‘পুরস্কার’ দেওয়ার নামে বিষয়টি এড়িয়ে যাবে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি শফিকুল বারি
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস এম জামান
প্রধান সম্পাদক
যোগাযোগ: Head Office:
86/ purana palton,Dhaka 1000
মোবাইল: 01906337172
ইমেইল: pratidinerkonthosor@gmail.com
©দৈনিক প্রতিদিনের কন্ঠস্বর