1
2
| প্রকাশের তারিখঃ ০৭ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ ইং
মুরগির কপালটাই খারাপ!
প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
প্রাচীন লড়াকু পাখি থেকে আজকের ‘ফ্রাইড চিকেন’-এর মজার ইতিহাস
_________________________
ফ্রাইড চিকেন, বাটার চিকেন, চিকেন নাগেট কিংবা চিকেন বার্গার—এসব নাম শুনলেই আমাদের জিভে জল আসে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, পৃথিবীতে এত পাখি থাকতে আমরা কেন শুধু মুরগিই খাই? রাজহাঁস, গাঙচিল বা টিয়া নয়—মানুষের পাতে জায়গা করে নিয়েছে একমাত্র মুরগি!
🐓 সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরোনো গল্প
আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মানুষ মুরগিকে খাওয়ার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ দেখার জন্য ব্যবহার করত। প্রাচীন যুগে এই পাখিদের দিয়ে বাজি ধরা হতো, মোরগ লড়াই ছিল রাজকীয় বিনোদন। সময়ের সাথে সাথে সেই লড়াকু মোরগ এখন মানুষের খাবার তালিকায় জায়গা দখল করেছে।
🐥 উড়তে না পারাই সর্বনাশ!
মুরগিরা উড়তে পারে না—এটাই তাদের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য। উড়তে না পারা মানেই সহজে ধরা পড়া, পালানোর সুযোগ নেই। খামারে হাজার হাজার পাখি পালা কঠিন, কিন্তু মুরগি শান্ত, ধীর আর একটু বোকা ধরনের প্রাণী। তাই মানুষ অলস হলেও বুদ্ধিমান—যে প্রাণীটি সহজে ধরা যায়, তাকেই নিজের খাদ্য বানিয়েছে।
🌳 বনমোরগের বংশধর
এখনো দেশের গভীর বনে দেখা মেলে বড় বনমোরগের। এদের থেকেই এসেছে আজকের পোষা মুরগি। কিন্তু বনের পরিমাণ কমে যাওয়া আর শিকারিদের তৎপরতায় এই বনমোরগ এখন বিলুপ্তির পথে।
📸 ছবি: সুপ্রিয় চাকমা
🧬 জেনেটিকস বলছে—এরা সংকর প্রাণী
অনেকে মনে করেন, পোষা মুরগি কেবল লাল বনমোরগের বংশধর, কিন্তু আধুনিক ডিএনএ পরীক্ষা বলছে ভিন্ন কথা। আজকের মুরগির গায়ে যে হলদে চামড়া, তা এসেছে ধূসর বনমোরগ নামের আরেক প্রজাতি থেকে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই দুই প্রজাতির সংকরায়ণেই তৈরি হয়েছে বর্তমানের মুরগি—যা মানুষের চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে সবচেয়ে ভালোভাবে।
🍗 অতীত থেকে আজ পর্যন্ত
যে পাখিকে একসময় মানুষ লড়াকু যোদ্ধা হিসেবে দেখত, সেই পাখিই এখন বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাধারণ মানুষ বছরে গড়ে প্রায় ৪৫ কেজি মুরগির মাংস খান। বলা যায়, মানুষ যত আধুনিক হয়েছে, মুরগির কপাল ততই খারাপ হয়েছে!
🖋️ — ফিচার ডেস্ক, প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস এম জামান
প্রধান সম্পাদক
যোগাযোগ: Head Office:
86/ purana palton,Dhaka 1000
মোবাইল: 01906337172
ইমেইল: pratidinerkonthosor@gmail.com
©দৈনিক প্রতিদিনের কন্ঠস্বর