প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
জুমার দিন (শুক্রবার) ইসলাম ধর্মে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন। কুরআন ও হাদীসের আলোকে এই দিনের অনেক ফজিলত, তাৎপর্য ও বিশেষ আমল বর্ণিত হয়েছে।
নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—
🌙 জুমার দিনের মর্যাদা ও ফজিলত
🕌 ১. সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> “সূর্য যেদিন উদিত হয়েছে, তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো শুক্রবার। এই দিনেই আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে অবতরণ করানো হয়েছে। আর কিয়ামতও এই দিনেই সংঘটিত হবে।”
(সহিহ মুসলিম, হাদীস: ৮৫৪)
📖 ২. কুরআনে জুমার নামেই একটি সূরা
আল্লাহ তাআলা বলেন—
> “হে ঈমানদারগণ! যখন জুমার দিনের নামাজের আহ্বান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত উপস্থিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।”
(সূরা আল-জুমুআ, আয়াত: ৯)
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়—জুমার নামাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ ও সম্মানিত ইবাদত।
🌸 ৩. জুমার দিনে বিশেষ দোয়া কবুলের সময়
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> “জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে নামাজ পড়া অবস্থায় কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তা দান করেন।”
(সহিহ বুখারি, হাদীস: ৯৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদীস: ৮৫২)
📌 অধিকাংশ আলেমের মতে, এই সময়টি হলো আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
🌿 ৪. জুমার দিনে গুনাহ মোচনের সুযোগ
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন—
> “যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে, জুমার নামাজে যায়, নিরবে খুতবা শোনে ও নামাজ আদায় করে — তার ঐ জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিন পর্যন্ত গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।”
(সহিহ মুসলিম, হাদীস: ৮৫৭)
🌹 ৫. জুমার দিনে দরুদ পাঠের ফজিলত
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> “তোমরা জুমার দিনে আমার উপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।”
(আবু দাউদ, হাদীস: ১৫৩১)
💧 ৬. জুমার দিনে গোসল করা সুন্নত
নবী ﷺ বলেছেন—
> “প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য জুমার দিনে গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং যা কিছু পারফিউম থাকে তা ব্যবহার করা কর্তব্য।”
(সহিহ বুখারি, হাদীস: ৮৮০)
🌼 ৭. জুমার দিনে সূরা পাঠের ফজিলত
সূরা আল-কাহফ পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> “যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা আল-কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলো বিকিরণ করবে।”
(আল-হাকিম, সহিহ হাদীস)
✨ জুমার দিনে করণীয় আমলসমূহ
১. গোসল ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা
২. সুবাসিত সুগন্ধি ব্যবহার করা
৩. সূরা আল-কাহফ পাঠ করা
৪. দরুদ শরীফ বেশি বেশি পাঠ করা
৫. খুতবা মনোযোগসহ শোনা
৬. দোয়া ও ইস্তেগফার করা
৭. আসরের পর বিশেষ দোয়া করা
৮. পরিবারের জন্য দোয়া ও দান করা
🕋 উপসংহার
জুমার দিন শুধু ইবাদতের দিনই নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা ও আল্লাহর নিকটে আরো ঘনিষ্ঠ হওয়ার এক মহাসুযোগ। এই দিনটি মুসলমানের জন্য “ঈদুল আসবু” (সাপ্তাহিক ঈদ)।