প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম নিউ মার্কেট মোড়ে বিকাল ৪টার আগে কোনো হকার বসলে উচ্ছেদ অভিযানসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে— এমন কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে নিউ মার্কেট মোড় এলাকায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।
⚖️ মেয়রের কঠোর নির্দেশনা, মেয়র বলেন,
> “নিউ মার্কেট মোড় নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে কেউ স্থায়ীভাবে ব্যবসা করতে পারবে না। বিকেল ৪টার আগে কোনো হকার বসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৪টার পর থেকে রাত পর্যন্ত হকাররা ব্যবসা করতে পারবেন, তবে কোনো স্থায়ী কাঠামো বা দোকান স্থাপন করা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন,
> “হকাররা যদি চাকাযুক্ত গাড়ি বা হাতে করে পণ্য এনে বিক্রি করেন, তা নিয়ে সমস্যা নেই। তবে কেউ স্থায়ী অবকাঠামো করলে বা পথচারী ও যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছেদ করা হবে। ব্যবসা শেষে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার দায়িত্বও তাদের।”
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চসিকের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোয়েব উদ্দিন খান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশসহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।
🚶♂️ অভিযানের সময় হকারদের প্রতিবাদ
অভিযান চলাকালীন মেয়রের অল্প দূরত্বেই (৪-৫ গজ ব্যবধানে) হকারদের একটি দল স্লোগান দিতে শুরু করে—
“মেয়রের ঘোষণা, হকার উচ্ছেদ চলবে না।”
এ দৃশ্য দেখে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দেয়— এই অভিযান আসলে কতটা কার্যকর হবে? অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, শুধু নিউ মার্কেট নয়, নগরীর অন্যান্য এলাকায়ও কি একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে?
🏙️ নিয়ম জারি, বাস্তবায়ন অনিশ্চিত
চট্টগ্রাম সিটিতে এর আগেও একাধিকবার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই হকাররা পুনরায় আগের জায়গায় বসে পড়েন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে,
> “নগরীর প্রায় সব এলাকায় হকার ব্যবসার সঙ্গে একটি অঘোষিত সিন্ডিকেট কাজ করে। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, হকার সংগঠনের নেতা এবং কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য যুক্ত। ফলে প্রশাসনের নির্দেশনা থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয় না।”
🚗 যানজটে নিত্যদিনের দুর্ভোগ
চট্টগ্রাম নগরীর যানজট এখন নাগরিক জীবনের অন্যতম বড় ভোগান্তি। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নিউ মার্কেট, জিইসি মোড়, আগ্রাবাদ, আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম কলেজগেট, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির সারি লেগে থাকে।
নগরবাসীর অভিযোগ— ফুটপাত দখল, হকারদের স্টল ও অবাধ পার্কিং— যানজটের প্রধান কারণগুলোর একটি।
🗣️ নাগরিকদের দাবি: টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন
সুশীল সমাজ ও নাগরিক অধিকারকর্মীরা বলছেন,
> “মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমাধান আসবে না। হকারদের পুনর্বাসন, নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের ব্যবস্থা, এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ— এই তিনটি বিষয়ের সমন্বিত বাস্তবায়ন জরুরী।
চট্টগ্রামের জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হলে কেবল উচ্ছেদ অভিযান নয়, প্রয়োজন সুসংহত নগর পরিকল্পনা, বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা— এমনটাই মত নগরবাসীর।
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি