প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর ডেক্সঃ
কুমিল্লায় আওয়ামীলীগ নেতাকে পূর্ণবাসন করতে কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ
_____________________________
কুমিল্লায় আওয়ামিলীগ নেতাকে পূর্ণবাসনের জন্য কোটি টাকা বিএনপির নেতাদেরকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায় জুলাই, আগস্টে হাসিনা সরকারের পক্ষ নিয়ে ছাত্রজনতার উপর দফায় দফায় হামলা চলে সারা দেশে, কুমিল্লাতেও একই ঘটনা ঘটায় হাজী আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার এমপির নেতৃত্বে। বাহার এমপির সহযোগী ছিলেন কুমিল্লা মহানগরের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের নেতা রাসেল আহম্মেদ।
কুমিল্লা জেলার সদর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন নসরাইল (দক্ষিণপাড়া) ০৪ নং ওয়ার্ড, ০৬নং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন, পোঃ আনন্দপুর এর ডাক্তার আবুল হোসেন ফারুকের ছেলে রাসেল আহম্মেদ, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গত ০৬ আগস্ট ২০২৫ইং তারিখ রাতে রাসেল আহম্মেদকে কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার পুলিশের একটি টিম গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশের সাথে উগ্র আচরণ ও হুমকি ধামকি প্রধান করে। তখন আওয়ামী লীগের দোসর রাসেল আহম্মেদ কুমিল্লা মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল পাশা সিদ্দিকি রাকিব"কে ফোন করে লাউড স্পিকার দিয়ে পুলিশদের শুনিয়ে বলতে থাকেন যে, রাকিব আমাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে বাসায় আসছে, যদি আমাকে পুলিশ গ্রেফতার করে তাহলে কেন আমি বিএনপির নেতাদেরকে এক কোটি টাকা দিলাম! আমি তো টাকা দিয়েছি আমাকে সেইভ রাখার জন্য, তখন রাকিব উত্তরে বলে, আপনাকে কেন পুলিশ গ্রেফতার করবেন? আপনি আপনার লোকজন খবর দেন, আমি আমার লোকজন নিয়ে আসতেছি বলে জানায়। তখন পুলিশের সাথেও রাকিব এর কথা হয়, আসতেছি বলে পুলিশকে জানালেও তার কিছুক্ষণ পর রাকিব তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।
তবে বিএনপির নেতাদেরকে এক কোটি টাকা দেওয়ার কথা বললেও কোন কোন নেতাদেরকে টাকা দিয়েছেন এবিষয়ে কিছু জানা যায়নি। তখন পুলিশ অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশের টিম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে পরে সেনা বাহিনীর সহায়তা নিয়ে পুলিশ রাসেল আহম্মেদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
উক্ত বিষয় কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের সাথে কথা বললে তারা জানান, ঘটনা সত্য ও রাসেল আহম্মেদ মৎস্যজীবী লীগের ০৪নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি ছিলেন। মামলার তদন্ত মূলে গ্রেফতার করতে গেলে অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে। জুলাই, আগস্টে আন্দোলনরত ছাত্র জনতার উপরে হামলার ছবি ও ভিডিও ফুটেজসহ হামলার প্রমাণ রয়েছে রাসেল আহম্মেদ এর বিরুদ্ধে। কুমিল্লা পুলিশ লাইনে ছাত্র জনতার উপরে হামলার ঘটনায় তিনটি মামলায় তাকে বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাসহ আরও মামলা রয়েছে বলে স্থানীয় লোকজনসহ প্রশাসন জানায়। কদমতলী থানা ধর্ষণের মামলা নং-১৫/১৮৯, তারিখ ০৫ মার্চ ২০২১ইং, কুমিল্লায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপর হামলার মামলা নং-৪৬, তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২৪ইং, মামলা নং-২৭, তারিখ ১০ অক্টোবর ২০২৪ ইং, মামলা নং-২৪, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৪ইং তারিখ।
কোতয়ালী থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায় কোন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরকে গ্রেফতার করলে প্রায় সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সুপারিশ আসে। প্রায়ই আমাদেরকে বিপাকে পরতে হয়। সরকার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগদের নেতা কর্মীদের মামলায় গ্রেফতার করার কথা বললেও আসামি গ্রেফতারের পর রীতিমতো আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশের কারণে, সুপারিশ না শুনলে হুমকি পেতে হয় আমাদের।
এছাড়াও সম্প্রতি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা (১০ আসনের) বিএনপির সাবেক এমপি (হুইপ) মনিরুল হক চৌধুরী কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে নিয়ে বে-ফাঁস মন্তব্য করার পর পুরো কুমিল্লা সহ রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে সমালোচনার ঝড় উঠলে উক্ত বিষয় কুমিল্লার অধিকাংশ নেতা কর্মীগণ নিন্দা জানান। তাদের সাথে কুমিল্লা মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল পাশ সিদ্দিকি রাকিবও নিন্দা জানান তবে নিন্দা জানানোর ভাষা ছিল ভিন্ন, অকাট্য ভাষা! সিনিয়র নেতা মনিরুল হক চৌধুরীকে তুই তকারী ভাষায় লিখে নিজের ফেইসবুক আইডিতে নিন্দা জানান। এ-নিয়ে আরেকটি সমালোচনার জন্ম হয়েছে। পরে আবার এডিট করে সাবলিন ভাষায় নিন্দা জানিয়ে পোস্ট করেন কুমিল্লা মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ আমিরুল পাশা সিদ্দিকি রাকিব।
আওয়ামীলীগের দোসর মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতি রাসেল আহম্মেদ এক কোটি টাকায় পূর্ণবাসনের বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সাংবাদিক আমিরুল পাশা সিদ্দিকি রাকিব এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন ০৪নং ওয়ার্ড এর আওয়ামীলীগের দোসর মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতি রাসেল আহম্মেদকে আমি চিনি না, আর কখনো তার নামও শুনি নাই। আমার ওয়ার্ড ১১নং ওয়ার্ড হের ওয়ার্ড ৪নং ওয়ার্ড কি ভাবে চিনব। এছাড়া আমি বহু আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরকে গ্রেফতার করাইছি। আমি আওয়ামীলীগ কর্মী পেলেই গ্রেফতার করাই বিশ্বাস না হলে কোতোয়ালি থানার এস আই ফারুক সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেন সে বলবে সব। আর আমি চাঁদাবাজি কারিনা আমার বিষয় জানতে আপনি চাইলে কুমিল্লা মহানগর সভাপতি আবু ভাই ও ইউসুফ মোল্লা টিপু ভাই সহ সকলকে জিজ্ঞাসা করেন তারা এক কথায় বলে দেবে সকলের বিষয় অভিযোগ থাকলেও থাকতে পারে তবে রাকিব এর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। তিনি আরও বলেন যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে অভিযোগ দেন কারণ আমি সামনে উপজেলা নির্বাচন করব তো তাই আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য এ সব অভিযোগ দেন। আমার বিরুদ্ধে কেউ এক টাকা চাঁদাবাজির প্রমাণ দেখাইতে পারবেন না এক থেকে এক হাজার পার্সেন্ট গ্যারান্টি দিয়ে বলছি। আর যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন তাহলে আমি তাকে উল্টো এক কোটি টাকা দেব। তবে রাকিব এর কথায় বুঝা যায় সে অনেক অর্থশালী বটে।
গত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখ শুক্রবার আসরের নামাজের পর কুমিল্লা সদর আসনের শাহ-গাজীপুরী দরবার শারীফের মাজারের মসজিদে নামাজ শেষে নির্বাচনীয় প্রচারণা মূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিএনপির সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরী তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাকিব তখন মনিরুল হক চৌধুরী বেড়িয়ে যাওয়ার আগেই মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক মূলক বক্তব্য দিতে দেখা যায় কুমিল্লা মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সাংবাদিক আমিরুল পাশা সিদ্দিকি রাকিবকে তার দেওয়া নিজস্ব ফেইসবুকের একটি ভিডিও ফুটেজে।
সেলিম সাজ্জাদের প্রতিবেদনে